চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খরা কাটানো গোলে সালাহর ‘ফিফটি’

প্রায় মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে সাউদাম্পটনের তিন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ালেন। গোল উদযাপনে সাধারণত যা করেন না শুক্রবারের ম্যাচটাতে এরপর সেটাই করে বসলেন মোহাম্মেদ সালাহ। খুলে ফেললেন জার্সি। দীর্ঘ খরা কাটানোর গোলের পর করলেন বুনো উল্লাস!

সালাহর এই উদ্দাম উদযাপনটা ভালোবেসেই গ্রহণ করেছেন লিভারপুলের সমর্থকরা। গুণে গুণে নয় ম্যাচ পর যিনি আবারও গোলের খাতা খুললেন তাকেই তো মানায় এমন উদযাপন!

পিছিয়ে পরেও সাউদাম্পটনের মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে লিভারপুল। এই তিন গোলের দ্বিতীয়টি এসেছে সালাহর পা থেকে। প্রথম গোলটি করেছেন নাবি কেইতা। শেষ গোলটি জর্ডান হেন্ডারসনের।

একে তো স্বস্তির তার উপর আরেক দিক থেকেও শুক্রবারের গোলটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সালাহর জন্য। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে গোলটি দিয়ে প্রিমিয়ার লিগে গোলের ফিফটি পেয়েছেন মিশরের ‘রাজা’! মাত্র অষ্টম ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গোলের ‘পঞ্চাশ’ পূর্ণ করতে ৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে এটিই এখন দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। সালাহর চেয়ে তিন ম্যাচ বেশি খেলে আগের রেকর্ডটি ছিল লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড ফার্নান্দো তোরেসের। একই সঙ্গে চলতি প্রিমিয়ার লিগে ১৮ গোল নিয়ে ফেলছেন সার্জিও আগুয়েরোর ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস। এক গোল বেশি নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ম্যানসিটির আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

তবে কীর্তি কিংবা লিগের গোল্ডেন বুটের লড়াই, এসব ছাড়িয়ে সালাহ স্বস্তি পাচ্ছেন খরা কাটাতে পেরে। ম্যাচের ৮০ মিনিটে অনেকটা দুরূহ অবস্থা থেকেই গোলটা করেছেন। এমনকি ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ রবের্তো ফিরমিনোকেও পাস দেননি। চেয়েছেন নিজ থেকেই করে দেখাতে। গোলের পর উদযাপনটা যতটা না নিজের তারচেয়ে বেশি ছিল সমালোচকদের একহাত দেখে নেয়ারও। কারণ লম্বা গোল খরায় সালাহর শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই!

‘নয় ম্যাচ পর গোল করতে পারায় আমি দারুণ আনন্দিত। কারণ আমি দলকে সাহায্য করতে পেরেছি।’

চাইলেই তো ফিরমিনোকে বলটা দিতে পারতেন? ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সালাহর উত্তর, ‘মোটেও না!’

‘আমি একজন স্ট্রাইকার যার কাজই হল গোল করা। আমার মাথায় সবসময় চিন্তা থাকে গোল করার। আমি শুধু চেয়েছি বলে শট নিয়ে গোল করতে এবং তা করেছি। আর আমি এনিয়ে খুশি!’

বিজ্ঞাপন