চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্ষুদ্র-কুটির শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভিস সেক্টরের জন্য স্বল্প সুদে আলাদা আলাদা ঋণ সুবিধা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদের ১২ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলােকে ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে ৩০ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হয়ে। একইভাবে কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলাের জন্যও ২০ হাজার কোটি টাকার আরাে একটি স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুযােগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত এক্সপাের্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের আকার ৩.৫ বিলিয়ন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে এবং এর সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন,  করোনা শুরুর সাথে সাথেই সরকার এ সংকট মােকাবিলায় নানাবিধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রাদুর্ভাব মােকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনৈতিক পূনরুদ্ধারে সরকার প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণােদনা প্যাকেজ ঘােষণা করেছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই ইউরােপ আমেরিকার বাজারে ধস নামে এবং এর ফলে আমাদের তৈরি পােষাকসহ রপ্তানিমুখী খাতে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত হতে শুরু করে। এতে করে এ খাতের প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়ে। এ অবস্থায় রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল ঘােষণা করা হয়। সরকারের এ দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।

এবারের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজায় কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। টাকার অংকে যা ৬৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়ায় ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

বাজেট পেশের পর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি অধিবেশনের মুলতবি থাকবে। ১৪ ও ১৫ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা এবং সম্পূরক বাজেট পাস করা হতে পারে।

১৬ জুন প্রস্তাবিত সাধারণ বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। ২৯ জুন সোমবার বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং অর্থবিল আকারে পাস হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে এবার সংসদে গিয়ে বাজেট অধিবেশন কাভার করার ক্ষেত্রে সংসদ ভবন সচিবালয় থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়।