চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে

নির্বাচনে হারলেও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার আভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে এই ধরনের পরিস্থিতি কি বৈশ্বিক গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অন্যান্য দেশ উৎসাহিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে গত এক দশকে সারা পৃথিবীতে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের যে দুর্দশা চলছে তা আরো একটু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে নির্দিষ্টভাবে বলতে হলে, ট্রাম্পের এই কথাটাকে তার নিজের দেশের রাজনীতির জন্য আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরবো না। এর বৈশ্বিক একটা নেতিবাচক প্রভাব আছে কিন্তু তার নিজের দেশের জন্য এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং আমি মনে করি এটা তার একটা পলিটিকাল স্টান্‌ট। যারা তার উগ্র ডানপন্থী সমর্থক, কঠোর সমর্থক তাদের চাঙা করতেই এসব বলছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শান্তনু মজুমদার মনে করেন, ট্রাম্প তার নিজের দলের মধ্যেই এটা প্রয়োগ করতে পারবেন না। নির্বাচনে হারলেই তিনি ডেড হর্সে পরিণত হবে। রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও বিপুল সংখ্যক লোক তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। এরা কিন্তু সে সময়ে এসব কাজকে মোটেও সমর্থন করবে বলে হয়না।

বিজ্ঞাপন

তবে তিনি মনে করেন, কিছুটা উগ্রপন্থী বা পপুলিস্ট পলিটিশিয়ান যারা তারা কিছু কিছু লোক জমায়েতের বা হিংস্রতা তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। তারা হয়তো সেসময়ে কিছু ‍উন্মত্ততা প্রদর্শন করতে পারে কিন্তু আমার মনে হয়না ট্রাম্প এই স্ট্যান্ড সাসটেইন করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

একই কথা বলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অরুণ কুমার গোস্বামী। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প অনেক কথাই বলে। আমেরিকা অনেক দিনের প্রচেষ্টায় যে সিস্টেম ডেভেলপ করেছে। সেখানে সংবিধানে সবই নির্ধারিত করে উল্লেখ আছে। ট্রাম্প একজন ব্যক্তি, তার একার কথাতেই সব সিস্টেম উল্টে পাল্টে যাবে এমনটা আমার মনে হয় না।

এসময় তিনি সফট স্টেট ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, একটা কনসেপ্ট আছে সফট স্টেট। রাষ্ট্রের যতগুলো অঙ্গ ও উপাদান থাকে সেখানে কোনো একটা সিস্টেম ডিস্টার্ব করলে পুরো সিস্টেম ডিস্টার্ব হয় সফট স্টেটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সিস্টেম খুব শক্তিশালী। সেখানে একটা সিস্টেম ডিস্টার্ব করলে সিস্টেমের অন্যান্য অঙ্গ সেটাকে কভার করে।

ট্রাম্প বলছে নির্বাচনে হারলেও ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সিস্টেম কি ট্রাম্পকে সেটা করতে দিবে? সে কি পারবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করতে। এটা নিয়ে নিশ্চয়ই কংগ্রেসে আলোচনা হবে। আমেরিকায় গণমাধ্যম অনেক শক্তিশালী এবং সে দেশের চতুর্থ অঙ্গ।

অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত হলেও ট্রাম্প কিন্তু একা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার না। সেখানে আরো অনেক অর্গান আছে। সেগুলোও দুর্বল না। তাদের গুরুত্ব আছে, কাজ করতে হয়। আমাদের সংবিধানে আছে কোনো দল থেকে কেউ নির্বাচিত হলে সেই দলের বিপক্ষে যদি জাতীয় সংসদে কোনো ভোট দেয় তাহলে তার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু আমেরিকায় সেই বিধান নেই। তাই আমেরিকার আইনসভা, গণমাধ্যম, বিচারবিভাগ কি প্রতিক্রিয়া দেয় ও কোন পর্যায়ে নিয়ে আসে তা এখন দেখার বিষয়।

কিন্তু ট্রাম্পের এই কথায় গণতন্ত্রের সূতিকাগার আমেরিকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন এই অধ্যাপক। বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের পরে গণতন্ত্রের যে তরঙ্গ চলছিলো তা স্তিমিত হয়েছে, কোথাও কোথাও তাতে ঘাটতি লক্ষ্য করা হচ্ছে। যদিও গণতন্ত্র একটা পরিস্থিতি, তাই সেটা কোনো না কোনোভাবে টিকে থাকবে।