চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত শিল্পের সুরক্ষায় পদক্ষেপ কী?

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী যে ভয়ঙ্কর প্রভাব বিস্তার করছে তার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানামুখী পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি খাত এখনও ধুঁকে ধুঁকে মরছে। সেই মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে বন্যা।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়: করোনার স্থবিরতা আর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ডুবে হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। তাঁতঘরের প্রায় ডুবন্ত মেশিনে নাক উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে রঙিন শাড়ি হওয়ার অপেক্ষায় রঙবেরঙের সুতো। তবে করোনাকালের দীর্ঘ চারমাস অপেক্ষার মাঝে ভয়াবহ বন্যা সেই যাত্রাপথকে করে দিয়েছে রুদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলের কালিহাতী, বাসাইল, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল সদর ও ভূঞাপুরের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক তাঁতির যন্ত্রপাতি, সুতা ও শাড়ির তৈরির উপকরণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উঠে দাঁড়ানোর সামর্থ্যহীন হয়ে পড়েছে। এতে তাঁত মালিকরা বলছেন, মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া এই শিল্পটিকে উঠে দাঁড়াতে হলে দরকার সরকারি প্রণোদনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টদের এ দাবি অযৌক্তিক নয়। করোনা ও বন্যায় ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। নিঃস্ব তাঁত সংশ্লিষ্টদের জন্য নগদ অর্থসহ নানা ধরনের প্রণোদনার বিকল্প নেই। টাঙ্গাইলের শাড়ির ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের এদিকে নজর দিতেই হবে।

তবে আশার কথা হচ্ছে, এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত মালিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, টাঙ্গাইল’র লিঁয়াজো কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের এই কর্মকর্তা। আমরা তাঁত বোর্ডের এ আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাই।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে টাঙ্গাইলে শাড়ি ঐতিহ্য সংকটে পড়বে, যা কখনোই কাম্য নয়। এজন্য তাঁত শিল্প রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।