চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিস্টোফার নোলান: কথায় নয়, কাজে সেরা

৩০ জুলাই ‘ব্যাটম্যান’ খ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান ৪৯ বছরে পা রাখলেন…

পৃথিবীর চলচ্চিত্র শিল্পকে যুগ যুগ ধরে শাসন করে আসছে হলিউড ইন্ডাস্ট্রি। স্রেফ ফ্যান্টাসি কিংবা যৌনতা নির্ভর ছবির আধিক্য থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন জনরার চলচ্চিত্র এখানে উৎপাদন হয় নিয়মিত। বর্তমান সময়ে হলিউডি সিনেমায় ভিন্নসুরের এক নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান।

ব্রিটিশ-আমেরিকান এই গুণী ও মেধাবী নির্মাতা ৩০ জুলাই (মঙ্গলবার) পা দিলেন ৪৯ বছরে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭০ সালের ৩০ জুলাই ইংল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন ক্রিস্টোফার নোলান। বাবা ইংলিশ আর মা ছিলেন আমেরিকান। ফলে দুই দেশেই বাস করতেন এই নির্মাতা। সিনেমা বানানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার, এবং এমনটি কখনো ভাবেননি যে সিনেমা নির্মাণ করে কাঁপিয়ে দিবেন বিশ্ব। কারণ উদ্ভিদবিদ্যার প্রতি তার ছিল দারুণ টান। গাছেদের জীবন নিয়ে তার ছিল বিস্তর কৌতুহল।

কিন্তু একদিন বাবার ক্যামেরা হাতে পেয়ে সব উলট পালট হয়ে যায় নোলানের। ক্যামেরায় দৃশ্যধারণ করে রাখার অদ্ভুত ক্ষমতায় বিস্মিত হন তিনি। দিনরাত পরে থাকেন ক্যামেরা নিয়ে। ক্যামেরার কারিকুরি করতে করতে একসময় সেই ছোট্ট বয়সেই নিজের খেলনাগুলো দিয়ে শর্টফিল্ম বানিয়ে ফেলেন ক্রিস্টোফার নোলান।

যদিও এই কাণ্ড পরবর্তিতে এসে নিজের কাছেই হাস্যকর ঠেকে। হাস্যকর লাগলেও ছোট বেলার এই প্রবল আগ্রহই যে আজকের পৃথিবী খ্যাত নির্মাতা বানাতে সাহায্য করেছে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। শুধু নির্মাতা হিসেবে নয়, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও ক্রিস্টোফার নোলান আজ সমাদৃত। তার সিনেমা মানেই বিশেষ কিছু, কি নির্মাণে, কি গল্পে কিংবা সিনেমাটোগ্রাফে!

আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিস্টোফার প্রথম নির্মাণ করেন একটি শর্টফিল্ম। ১৯৯৭ সালে বানানো সে শর্টফিল্মটির নাম ছিল ‘ডুডলিবাগ’। ঠিক পরের বছরেই তিনি ফিচার ফিল্ম বানিয়ে হলিউড অঙ্গনে ঝড় তুলেন। তার বানানো প্রথম সিনেমার নাম ‘ফলোয়িং’। এক সিনেমার মধ্য দিয়েই নির্মাতা হিসেবে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেন নোলান। ৬৯ মিনিটের ছবিটি বানাতে নোলানের খরচ পড়ে মাত্র ৬ হাজার ডলার! ছবিটি পরিচালনা ছাড়াও চিত্রনাট্য ও ক্যামেরাম্যানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান নিজেই। মুক্তির একমাসের মধ্যেই দেখা যায় ‘ফলোয়িং’ প্রায় ৫০ হাজার ডলার আয় করে।

ভিন্ন ধাঁচের ছবি করেও যে বাণিজ্য করা যায়, তা দেখিয়ে দেন তিনি। যা সিনেমার প্রতি আরো আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় তার। এর ঠিক পরের বছরেই ক্রিস্টোফার নোলান নির্মাণ করেন তার অসাধারণ সিনেমা ‘মেমেন্তো’। একজন সিরিয়াল কিলারের গল্পকে কেন্দ্র করে এ ছবিটিরওচিত্রনাট্য লিখেন নোলান। ছবিটি ২০০১ সালে ২৫ মে মুক্তি পায়। ‘মেমেন্তো’র জনপ্রিয়তা এতটাই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল যে বিভিন্ন ভাষাতেও ছবিটি নির্মাণ করতে দেখা যায়। বলিউডেও ‘গজিনি’ নামে ছবিটিতে আমির খানকে অভিনয় করতে দেখা যায়।

তারপর নোলান একে একে নির্মাণ করেন ইনসোমনিয়া, ব্যাটম্যান বিগিনস, দ্য প্রেস্টিজ, দ্য ডার্কনাইট, ইনসেপশন, ইন্টারেস্টেলার ও ডানকির্ক-এর মতো দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া অসাধারণ সিনেমাগুলো।

ক্রিস্টোফার নোলান অল্প সময়ে হলিউডে যে সামর্থ প্রদর্শন করছেন, তাতে কোয়ান্টিন টারান্টিনো, মার্টিন স্করসেস, স্টিভ ম্যাককুইন, সার্জিও লিওন, স্ট্যানলি কুবরিকের মতোন অসাধারণ সিনেমা নির্মাতাদের সাথে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তাকে নিয়ে, তার সিনেমা নিয়ে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন জীবীত কিংবদন্তি নির্মাতারাও!

নোলানের আলোচিত ছবিগুলোর একটি ‘ইনসেপশন’…

১৯৯৮ সালে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হওয়া ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা দশটি, যার প্রতিটিই অত্যন্ত সফল। এখন পর্যন্ত তাঁর ছবিগুলো অস্কারে ২৬টি মনোনয়ন পায় এবং সাতটি পুরস্কার অর্জন করে।

তার কিছু কাজ বুঝতে সাধারণের অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু একই সাথে এগুলোর অসাধারণ গল্প শৈলী আর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এর মিশ্রণ তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে। তার বয়সের কারণে তাকে এক নম্বর পরিচালক হিসেবে ঘোষণা করতে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে, কিন্তু নোলান তার কাজের মাধ্যমে সেরা হয়েছেন অনেক আগেই।