চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিসমাস ফোনে শিশুকে ট্রাম্প: ‘তুমি এখনো সান্তায় বিশ্বাস করো?’

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস বা বড়দিন। আর এমন দিনেও শিশুদের চিরায়ত বিশ্বাসে বাগড়া বাঁধিয়ে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বড়দিনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে থাকে ক্রিসমাস ট্রি আর সান্তা ক্লজ। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে শিশুরা আশায় বুক বেঁধে বড়দিনের আগের রাতে ঘুমোতে যায় এই আশায়, সকালে উঠে দেখবে ক্রিসমাস ট্রির নিচে সান্তা তাদের পছন্দের উপহারটি রেখে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সারা বছর লক্ষ্মী হয়ে চললে বড়দিনে সান্তা উপহার দেবেন, নইলে দেবেন না, এই ভয়ে বাচ্চারা দুষ্টুমি একটু কম করারও চেষ্টা করে।

আর সেই অদম্য বিশ্বাসেই ছেদ ফেলার চেষ্টা করলেন ট্রাম্প! সাত বছরের এক শিশুকে ফোনে প্রশ্নই করে বসলেন: তুমি এখনো সান্তায় বিশ্বাস করো??

আমেরিকান শিশুরা ছোটবেলা থেকেই একটি ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠে: সান্তা ক্লজ সারাবছরই বিশ্বজুড়ে সব মানুষের কাজকর্ম মনিটর করেন এবং যারা ভালো হয়ে চলে তাদের জন্য উপহার তৈরি করতে ব্যস্ত থাকেন।

বড়দিন-ক্রিসমাস-ট্রাম্প-সান্তা ক্লজ বিশ্বাস
বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টধর্মীয় শিশুদের অগাধ বিশ্বাস সান্তা ক্লজের অস্তিত্বে

অবশেষে বড়দিনের আগের রাতে একে একে সবার উপহার পৌঁছে দেন সান্তা। তবে কাজটা করেন লুকিয়ে। সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন বাড়ির চিমনি দিয়ে ঢুকে উপহার রাখেন। আর যাওয়ার সময় তার জন্য আলাদা করে রাখা দুধ ও কুকিজ খেয়ে যান। না খেয়েও উপায় নেই। বেচারাকে সারাটা রাত পুরো পৃথিবীতে ছুটোছুটি করতে হয়।

তো সান্তা কখন কোন এলাকায় যাচ্ছেন, কোথাও বেশি সময় নষ্ট করছেন কিনা, কার কী উপহার চাই তা জানিয়ে লেখা চিঠি ঠিকঠাক পেলেন কিনা – এসব তথ্য সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ‘নোর‌্যাড’ (অন্তত আমেরিকান বাচ্চারা তাই জানে!)।

তাই ‘ক্রিসমাস ইভ’ বা বড়দিনের আগের সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এসব খোঁজখবর জানার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ছেলেমেয়ে হোয়াইট হাউজের কিছু পাবলিক নাম্বারে ফোন করে। সেই ফোনগুলো সাধারণত ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি। তারা ছোটছোট শিশুদের সঙ্গে বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের কৌতুহল মেটান।

বিজ্ঞাপন

এ বছরও একইভাবে সোমবার দায়িত্বটি পালন করছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। এর মাঝে কোলম্যান নামের একটি মেয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের কথাগুলো ছিল এরকম:

‘হ্যালো, কোলম্যান বলছ? মেরি ক্রিসমাস। কেমন আছো তুমি? তোমার বয়স কত?… স্কুলে ভালোভাবে লেখাপড়া করছ তো? তুমি কি এখনো সান্তায় বিশ্বাস করো?’

বড়দিন-ক্রিসমাস-ট্রাম্প-সান্তা ক্লজ বিশ্বাস
বড়দিনের সঙ্গে উপহার ও সান্তার ধারণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত

‘কারণ সাত বছর বয়স হয়ে গেছে তোমার, এই বয়সে এটা একটু কেমন হয়ে যায় না?’

ও প্রান্তে কোলম্যানের জবাবগুলো শোনা না গেলেও এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, প্রেসিডেন্টের কথায় সে খুব একটা খুশি হয়নি।

আর ট্রাম্পই বা ক্রিসমাস ইভে এমন একটা প্রশ্ন একটি শিশুকে কেন করলেন, সেটাও একটা চিন্তার বিষয়। কেননা বড়দিনের সঙ্গে সান্তা ক্লজের অস্তিত্ব শিশুদের কাছে একটা সুখকর বিশ্বাস।

হোয়াইট হাউজের পুল রিপোর্টার কেভিন ডিয়াজের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ থেকে এ কথোপকথনটি পাওয়া যায়। এটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।

তবে এছাড়া বাকি ফোনকলগুলোতে মোটামুটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই কথা বলেছেন ট্রাম্প। ফার্স্ট লেডির সব কথাই ছিল শুভ কামনামূলক।