চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিকেট ইতিহাসে সেদিনই প্রথম ঘটেছিল

ক্রিকেটে তো অহরহ কত কাকতলীয় ঘটনাই ঘটে। এটিকে বোধকরি তেমন একটি মনে করা হয়। না হলে এটি কেন গুরুত্বহীন হয়ে যায়? একটুও কি নাড়া দেয় না কারও স্মৃতিতে? এর কি কোনও মহিমা নেই?

২০০০ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেন কৃতী ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর একই দিনে টেস্টের ৫০তম এবং সব সংস্করণ মিলিয়ে শততম সেঞ্চুরি করেছেন আরেক ‘লিটিল বয়’ মুমিনুল হক। সঙ্গত কারণেই মুমিনুলকে নিয়ে বন্দনা হচ্ছে মিডিয়ায়। এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেও মিডিয়ার প্রশস্তি পান নি বুলবুল। কেন পেলেন না?

আসলে তখন তো ইলেকট্রোনিকস মিডিয়ার এমন রমরমা ছিল না। তা না হয় থাকলো। কিন্তু পরের দিন প্রিন্ট মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে একটি শব্দও লেখা হবে না-এ কেমন করে হয়? খুবই বিস্ময়কর নয় কি?
প্রকৃতপক্ষে বুলবুলের প্রতি কোনও অভিমান করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। বুলবুলকে যাঁরা চেনেন বা জানেন, তাঁর সঙ্গে অভিমান করার প্রশ্নই আসে না। বরং তাঁর হাসিমাখা অমায়িক ব্যবহার কখনও ভুলতে পারা যায় না। তাহলে ক্রিকেট ইতিহাসের এমন একটি দুর্লভ কীর্তি গড়ার পরও তাঁকে নিয়ে কেন লেখা হলো না?

Advertisement

কারণটা ছিল, শব-ই-বরাতের ছুটির জন্য ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হয় নি কোনও সংবাদপত্র। তবে সংবাদপত্র প্রকাশিত না হলেও বুলবুল কিন্তু পেয়েছিলেন ক্রীড়া লেখক ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের বুকভরা অপরিসীম ভালোবাসা। যা ক্রিকেট ইতিহাসে আজ অব্দি কেউ পেয়েছেন কিনা আমার অন্তত জানা নেই।

বুলবুলের অভিষেক টেস্টের কৃতিত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেদিন উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা তাঁদের কলমে মনের যে অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, তা নিয়ে ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রেস বক্স’ নামের একটি বুলেটিন। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা বোধকরি সেদিনই প্রথম ঘটেছিল।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)