চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যাসিনো কাণ্ড ও সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পরে কী?

 

পরপর তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলছে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। এই সময়ের মধ্যে সরকারের কোনো পদক্ষেপে জনগণের একপক্ষ হয়তো খুশি হয়েছে, আরেকপক্ষ নাখোশ হয়ে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ক্যাসিনো অভিযানসহ দুর্নীতি অভিযান ইতিবাচক আলোড়ন তুলেছে জনমনে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা ও পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় চলে আসেন। তারপরে ধীরে ধীরে দলের আগাছা পরিষ্কারের অভিযানের বলি হয় তার দলের আরেক সহযোগী সংগঠন যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবে অভিযানে বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো ও জুয়া-মাদকের আখড়া। যুবলীগ নেতা, হাইব্রিড ব্যবসায়ী কাম রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া সংগঠকসহ অনেকে গ্রেপ্তার হতে থাকে ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে। এরপরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভাষণ-বিবৃতির পরে জনমনে আশার সঞ্চার করে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ও ভারত সফরের ব্যস্তসূচিতে বিদেশে থাকায় জনগণ চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ দেখতে। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রী হয়তো রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সারের মতো বসে থাকা দুর্নীতি খুঁজে খুঁজে বিদায় করবেন।

শুধু দেশের জনগণের মনে আশার সঞ্চারই করেনি, এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বিশ্বব্যাপী নানা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের ভাবমূর্তি কয়েকদশকের মধ্যে সর্ব্বোচ অবস্থানে আছে বলেও জানা গেছে।

রবিবার এক অভিযানে যুবলীগের শীর্ষ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছিল অনেক আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার অফিসে অভিযানের পরে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ বস্তু। র‍্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের তাৎক্ষনিক দণ্ডে কারাগারে স্থান হয়েছে সম্রাটের।

ক্যাসিনো কাণ্ড ও সম্রাটের গ্রেপ্তারের পরে কী করবেন প্রধানমন্ত্রী? এই প্রশ্ন এখন সামাজিক মাধ্যমে, টক শোতো ও সংবাদ বিশ্লেষনে। এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে। তবে আমাদের আশাবাদ, এই পদক্ষেপের বিস্তৃতি শুধু ক্যাসিনোতে সীমাবদ্ধ না থেকে যে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি-অর্থনীতি ক্যাসিনোর মতো সংস্কৃতি তৈরি করে, তার মূলে আঘাত করবে। দেশের সর্বস্তরের জনগণও হয়তো এমনটাই ভাবছে।

Bellow Post-Green View