চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যামেরা নেই তাই থানচিতে ‘সুশীল’রাও নেই

বিগত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার রয়েছে বান্দরবানের থানচিতে খাদ্য সংকট। এই বিষয়ে নিজেদের কথাও বলছেন অনেকে। এবার থানচির খাদ্যসংকট নিয়ে কথা বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা। 

ফেসবুকে তিনি এই বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, থানচির দুর্গম অঞ্চল রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মোদক, বড় মোদক ও সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় মূলত ত্রিপুরা, ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। পাহাড়ে জুম চাষের মাধ্যমে তারা সারা বছরের খাদ্য হিসাবে ধান সংগ্রহ করে। কারণ আমাদের মতো ডাল-ভাতই তাদের মূল খাবার। ভালো ফলন না হলে অথবা ইঁদুরের আক্রমণ ঘটলে কিংবা বন্যা দেখা দিলে মাঝে মাঝে তাদের এ খাদ্য মজুদ করা সম্ভব হয় না। ফলে সংকট তৈরি হয়। এ বছরও তাই হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এরপর সরকারের নানান উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেন, তবে সরকার সেখানে এখন পর্যন্ত জরুরী ভিত্তিত্তে দুই দফায় ৭৬ মেট্রিক টন চাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে। এই দ্রুততার সাথে খাবার পৌঁছানোর কাজটিতে সহায়তা করছে সেনাবাহিনী। এমনকি এ কাজে তারা তাদের হেলিকপ্টার ব্যবহারেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১২ সালেও বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়িতে একই সংকট দেখা দেয়। এবং তখনও সরকার সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্যাকেজ ঘোষণা করে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ’ টাকা, ৩ লিটার ভোজ্য তেল, গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৬ কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য, জুমের বীজ কেনার জন্য এককালীন পরিবার প্রতি দুই হাজার টাকা দেয়।

এরপর সুশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন, কিন্তু যারা এসব ইস্যু নিয়ে হায় হায় করেন সেইসব সুশীলদের বলতে চাই আপনারা থানচির জন্য কি করছেন? একবারও কি সেই জনপদে কেউ তাদের দেখতে গেছেন? তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন? কই দেখলাম নাতো। কারণ ওখানে টিভি ক্যামেরা পাওয়া যায় না। মুখ দেখানো যায় না।

এখন বলতে পারেন আমরা কি করবো করার দায়িত্ব তো সরকারেরই। তাইলে ভাই জানতে চাই আপনাদের আসলে দায়িত্বটা কি!! খালি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হায় হায় করা? নাকি নিজের থেকে মানুষের জন্য কিছু করা?

পাহাড়ের সন্তানরা ভালো থাক।

বিজ্ঞাপন