চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যান্সার হবে কিনা, জানা যাবে ১৩ বছর আগেই

ক্যান্সার নিমেষেই ধ্বংস করে দেয় জীবনকে। কিন্তু যদি অনেক সময় আগেই জানা যায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন তাহলে?

এই যেমন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কথাই ধরুন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন এই ভয় থেকেই নিজের স্তন এবং ডিম্বাশয় কেটে ফেলেন জোলি। কিন্তু যদি এই সময়ে না জেনে আরো আগেই জানতে পারতেন তাহলে নিশ্চয়ই সমাধানে আসতে এতটা ভোগান্তি পোহাতে হতো না বিখ্যাত এই অভিনেত্রীকে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা বলছে, সেই সময় খুব দূরে নয় যখন ১৩ বছর আগের ছোট্ট একটা টেস্টই জানিয়ে দেবে, আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন কি না।

ক্যান্সার শরীরকে গ্রাস করার ১৩ বছর আগেই শরীরে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে হার্ভার্ড ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

মানুষের প্রতিটি ক্রোমোজোমের শেষে একটি নিরাপত্তা দেয়ার মতো ক্যাপ থাকে যেটা কিনা ডিএনএ’কে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এই ক্যাপগুলোকে বলা হয় টেলোমোরস।

বিজ্ঞাপন

যাদের ক্যান্সার হতে যাচ্ছে তাদের এই ক্যাপগুলো ছোট থাকে। শুধু তাই নয়, বরং ক্যান্সার হওয়ার চার বছর পূর্ব পর্যন্ত ক্রমাগত ছোট হতে থাকে। এমনকি একসময় টেলোমোরস কুঁচকে যেতে থাকে। যাদের ক্ষেত্রে এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তনটা দেখা যায় তারাই একসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ড. লিফাং হউ বলেন, টেলেমোরের ধরণটা বুঝতে পারলেই আমরা ক্যান্সারের পূর্বধারণা করার পথে অনেকটা এগিয়ে যাব। এই দুটির মধ্যে খুব গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারলে ক্যান্সারের আরো নানান ধরণ সম্পর্কে অনেক বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে।

তখন হয়তো যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন তারা তাদের জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে ঝুঁকির মাত্রা খানিকটা কমাতে পারবেন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিও এই প্রজেক্টটি নিয়ে কাজ করছে। কিভাবে টেলেমোর আবারও নতুন করে বেড়ে উঠতে পারে সেই চেষ্টাও চালাচ্ছেন তারা।

প্রায় ১৩ বছর ধরে ৭৯২ জন মানুষের উপর এই গবেষণা চালিয়েছে গবেষকরা। তাদের মধ্যে ১৩৫ জন পরবর্তী কালে কোনো না কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

গবেষকদের আশা, তারা যদি ঠিক করে বুঝতে পারে যে কিভাবে ক্যান্সার কোষকে গ্রাস করে, তখন হয়তো এমন নিয়ম বের করা যাবে যেনো আক্রান্ত কোষ পাশের কোনো সুস্থ কোষের ক্ষতি না করে নিজেই নিজেকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

‘ইবিওমেডিসিন’ নামে একটি অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি থেকে এমনটাই জানা গেছে।

Bellow Post-Green View