চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরীব মানুষের নাগালে আনতে দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর এ জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে এসব চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

দুই বছর আগে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে ২০১৮ সালে দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে দেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, আইএআরসি’র ওই প্রতিবেদন এ দেশে প্রতি বছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৮ হাজার লোক মারা যায় বলেও জানানো হয়েছিল। যে সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ক্যান্সার আক্রান্তদের সার্বিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলেও তার চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি, ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছে গেছে।

দেশের সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মানে বর্তমানে ৮টি বিভাগীয় সদরেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলা শহরের বহু মানুষকে আর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না। বলতে গেলে বাড়িতে থেকেই খরচ এবং সময় বাঁচিয়ে উন্নত মানের চিকিৎসা তারা পাবেন।

আমরা জানি, প্রাথমিকভাবে শনাক্তের পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা করানো গেলে ব্যয়বহুল এ রোগের নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময় সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য অনেকেই চিকিৎসা না করিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গোনে। এক কথায় বলতে গেলে এ এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি।

আমরা মনে করি, সরকারের এই উদ্যোগকে সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে এত বড় কাজে অনেক সময় দুর্নীতি-অনিয়মের সম্ভাবনা থাকে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার শুধু কাঠামোগত উন্নয়নে পরিতৃপ্ত হলে চলবে না। ব্যবস্থাপনার দিকটাতেও নজর দিতে হবে। তবেই মানুষ উপকৃত হবে।