চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোহলিকে ধুয়ে ভারতীয় দলের বৈষম্য বোঝালেন গাভাস্কার

খেলোয়াড় ভেদে ভারতীয় ক্রিকেট দলে ভীষণ রকম বৈষম্যের কঠিন অভিযোগ তুলেছেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ছুটি দেয়া হয়েছে, অথচ সন্তান হওয়ার পরও ছুটিবিহীন টি নটরাজন কেন নেটে বল করে চলেছেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয়দের সাবেক অধিনায়ক।

বৈষম্যের দিকটি তুলে আনতে গিয়ে এক কলামে গাভাস্কার টেনেছেন নটরাজন ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিষয়টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে অভিষিক্ত পেসার নটরাজনকে নিয়েই বেশি লিখেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘আইপিএল প্লে-অফ যখন চলছিল, তখন প্রথমবারের জন্য নটরাজন বাবা হয়েছে। কিন্তু ওকে বলা হল অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য থেকে যেতে। শুধু তাই নয়, ও ভারতীয় দলেও ছিল না। ও ছিল নেট বোলার। ভাবুন একবার! একজন ম্যাচ উইনারকে (যদিও অন্য ফরম্যাটে) বলা হচ্ছে নেট বোলার হতে!’

বিজ্ঞাপন

‘তার উপর বাবা হওয়ার সময় তাকে ছুটি দেয়া হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হলে, অর্থাৎ জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের আগে ও দেশে ফিরতে পারবে না। তার আগে সদ্যজাত মেয়ের মুখও দেখতে পারবে না। উল্টোদিকে দলের অধিনায়ক বাবা হবে বলে প্রথম টেস্ট খেলেই দেশে ফিরে আসছে। একেকজনের জন্য একেকরকম নিয়ম।’

এরপর অশ্বিনের উদাহরণ তুলে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘অশ্বিনকেও মাঝেমাঝেই ভুগতে হচ্ছে। সেটা ওর বোলিংয়ের জন্য নয়। ওর বোলিং নিয়ে একজন মূর্খও প্রশ্ন তুলবে না। কিন্তু ওকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে টিম মিটিংয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলার জন্য, বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগ করার জন্য। একমত না হলেও বাকিরা যেখানে চোখ বুজে, মাথা নেড়ে সবকিছুতে সায় দিয়ে যায়, অশ্বিন সেটা করে না। তাই একটা ম্যাচে একটু বেশি উইকেট না পেলেই ওকে পরের ম্যাচে বসতে হয়। এটা কিন্তু প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে হয় না।’

‘অন্যকোন দেশ হলে, ৩৫০ উইকেট আর ৪ সেঞ্চুরি করা একটা খেলোয়াড়ের সঙ্গে মোটেও এমন আচরণ করতো না। অথচ অশ্বিন যদি একটা ম্যাচে উইকেট না পায়, তাকে পরের ম্যাচে বসে থাকতে হয়। অথচ স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে এমনটা করা হয় না। এক ম্যাচে খারাপ খেললে তারা সুযোগের পর সুযোগ পেতেই থাকে। আর অশ্বিনের সঙ্গে করা হয় ভিন্ন আচরণ।’

‘এটাই ভারতীয় ক্রিকেট। বিভিন্ন লোকের জন্য বিভিন্ন নিয়ম। আমার কথা বিশ্বাস না হলে একবার অশ্বিন বা নটরাজনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।’