চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমলো

প্রয়োজনে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা হবে

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম এ বছর ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমানো হয়েছে। লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮-৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকা আর বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা।

রোববার জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এ দাম ঘোষণা করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন চামড়া খাত শিল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

দাম কমানোর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এছাড়া করোনার কারণে বিশ্ববাজার সঙ্কুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনায় গতবারের চেয়ে কম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

টিপু মুনশি বলেন, ‘ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। গত বছর যা ছিল ৪৫-৫০ টাকা। এক্ষেত্রে গত বছরে তুলনায় দাম কমানো হয়েছে ২৯ শতাংশ। ঢাকার বাইরে ২৮-৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, গত বছর যা ছিল ৩৫-৪০ টাকা। এক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম কমানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।’

বিজ্ঞাপন

‘এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকা; গত বছর যা ছিল ১৮-২০ টাকা। এক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম কমানো হয়েছে ২৭ শতাংশ। পাশাপশি বকরির চামড়ার দাম নির্ধরণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা, গত বছর যা ছিল ১৩-১৫ টাকা। এক্ষেত্রেও দাম কমানো হয়েছে ২৩ শতাংশ।’

দেশে দিন দিন চামড়াজাত পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু কাঁচা চামড়ার দাম কমানো হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দা দেখা দিয়েছে। তাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের কথা চিন্তা করে দাম কমানো হয়েছে। তাছাড়া ট্যানারি শিল্পটা এখনও আপডেট করতে পারিনি এটাও আমাদের একটা দুর্বলতা।

গত বছর কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেনি। গরিব ও এতিমদের হক চামড়ার দাম নিয়ে গত বছরের কারসাজি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ৩১ বছরের মধ্যে গতবার কোরবানির কাঁচা চামড়ার দরে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে। দাম না পেয়ে অনেকেই চামড়া নদীতেও ফেলে দিয়েছেন। কেউ কেউ মাটিতে চামড়া পুঁতে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, এবার যদি নায্যমূল্য না পাই তাহলে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করবো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়ে রেখেছি। এজন্য ট্যানারি মালিকদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির চামড়া পরিবহনে যেন কোনও সমস্যা না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চামড়া যাতে পাচার না হয় সেজন্য সীমান্ত এলাকায় তদারকি বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।