চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জেন্ডার সমতার জন্য ইউনিসেফের ৫ পদক্ষেপ

জাতিসংঘের অন্যান্য সহযোগী সংস্থা, দেশভিত্তিক ও আঞ্চলিক সরকারি অংশীদার, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইউনিসেফ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি সেবা প্রদান, ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা, প্রচার ও যোগাযোগ সব কিছুর কেন্দ্রে জেন্ডার বা লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে পাঁচটি কর্মসূচিভিত্তিক ও অ্যাডভোকেসি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাব সামাল ওইসব পদক্ষেপগুলো পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছে ইউনিসেফ।

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবা প্রদানকারী সেবিকা বা নার্স, ধাত্রী ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নারীরা সব ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন, যদিও তাদের ভূমিকা অনেকসময়ই উপেক্ষিত থাকে এবং তারা সম্মানিও কম পান। অসুস্থ স্বজন, সাংসারিক কাজকর্ম ও শিশুদের সেবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী ও মেয়েরাই পালন করে থাকে। এই বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবে নারী ও শিশু, বিশেষ
করে নারীর আয়ে পরিচালিত পরিবার, তা অভিবাসী শ্রমিক কিংবা রেমিটেন্স গ্রাহক যেই হিসেবেই হোক না কেন, সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থানে থাকবে।

এই সংকট মোকাবেলায় যারা সামনের কাতারে থেকে কাজ করছেন তাদেরকে আমাদের সম্মিলিতভাবে চাইল্ডকেয়ার, স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য সামাজিক সেবা ও সুরক্ষা প্রদানসহ পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে হবে। এই প্রাদুর্ভাবের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে এবং ভবিষ্যতের খারাপ পরিস্থিতি সামলে ওঠার সক্ষমতা তৈরিতে নারী ও কন্যা শিশুদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তার প্রতিও অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।

আমাদের সব সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারদের নিয়ে কর্মীদের সুরক্ষা, মানসিক চাপ কমানো এবং শিশুর বিকাশ ও পরিবারের কল্যাণে পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

২. কোভিড-১৯ মোকাবেলার এই সময়ে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) বাড়বে এবং এসব ঘটনা সামাল দিতে যারা প্রাথমিক সেবা দেবেন তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে পারি। এক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরীদের জন্য তাদের সাথে নিয়েই সংকট মোকাবেলায় আমাদের যে সব অনন্য উদ্যোগ রয়েছে সেগুলো কার্যকর করারও প্রস্তুতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক পকেট গাইড এবং অ্যাপ সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। আমাদের সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও প্রস্তুত করতে হবে, বিশেষ করে কমিউনিটি পর্যায়ে, যাতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার যারা শিকার, তাদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা সাথে সাথে রিপোর্ট করতে হটলাইন চালু এবং অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য সকল পর্যায়ে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে।

৩. ইবোলা ও জিকাসহ অতীতের মহামারীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার তৎপরতায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসা সেবা থেকে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা এবং ধর্ষিত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়। সেবা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত নারী, বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরী ও কন্যা শিশুরা তখন খুব নাজুক হয়ে পড়ে এবং এতে রোগ বৃদ্ধি, মৃত্যুহার ও এইচআইভির সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাই এরকম সময়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে বিকল্প সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ মুখ্য ও মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও সব বয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম শক্তিশালী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

৪. যোগাযোগ ও গুরুত্বপূর্ণতথ্য প্রবাহে সহায়তার জন্য নারী ও যুব অধিকার সংক্রান্তনেটওয়ার্কগুলোকে সম্পৃক্ত করা স্কুল বন্ধ হওয়ার ফলে দুরশিক্ষন বা ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ায় কিশোরী মেয়েদের জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সহায়তা কাঠামো আছে সেগুলো সচল রাখতে হবে। সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী ও শিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং জিবিভি হটলাইনসহ অন্যান্য সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য ছড়িয়ে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রত্যক্ষ যোগাযোগের যেসব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক আছে সেগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। যৌথভাবে সমস্যা মোকাবেলা ও পরিস্থিতি অনুধাবনে আলোচনার জন্য ইউ-রিপোর্টের মতো আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। আমাদের কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এসব নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও এর সমর্থক অংশীজনদের সক্রিয় করতে হবে।

৫. লিঙ্গভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত সহজলভ্য, বিশেøষণাত্মক হতে হবে ও তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যদি আমরা প্রশ্ন না করি তাহলে আমরা জানব না এবং কাজও করব না। কিছু না করলে আমরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবো। সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে লিঙ্গ, বয়স ও প্রতিবন্ধিতার তথ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর কী প্রভাব ফেলছে তার বিশ্লেষণাত্মক সমীক্ষাও করতে হবে।