চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোভিড-১৯: মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় সময় উপযোগী পদক্ষেপ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অসীম সাহসিকতার সাথে এ দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশে সীমিত আকারে ক্লাস্টার বা গুচ্ছ সংক্রমণ কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে। তাই এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। কিছুদিন ব্ন্ধ থাকার পর এটা অনুধাবন করা হয় যে, এতে এমডি, এমএস, এমফিল, ডিপ্লোমা কোর্স, অন্যান্য কোর্স ও এমবিবিএস কোর্সের শিক্ষার্থীরা কোর্স থেকে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ নির্দিষ্ট ব্লকের বা পার্টের সময় চলে গেলে তারা পরবর্তী ব্লক বা পার্টের জন্য পিছিয়ে পড়বে।

এমতাবস্থায় আমাদের দেশে স্বল্প পরিসরে প্রথমে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সীমিত পরিসরে শুরু হলেও এখন ধীরে ধীরে এটির বিস্তৃতি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক রিসার্চ ইন্সিটিটিউট ও স্কুল কলেজে বিস্তৃতি লাভ করে ও এর পরিধি ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রের বিষয়, বিষয়ের কারিকুলাম, প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত অনলাইন ব্যবস্থার প্রাপ্যতা, ক্লাসের সময়সূচী, শিক্ষকের দক্ষতা, ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতা এই বিষয়গুলো নজরে রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। পোস্টগ্র‍্যাজুয়েট ছাত্রদের মধ্যে কিছু ছাত্র ফেজ-এ, ফেজ-বি, থিসিস পার্ট, ফাইনাল পার্টের আছে। এদের মধ্যে কিছু ছাত্রছাত্রী রোস্টার অনুযায়ী কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা, করোনা পরীক্ষা ও গবেষণার কাজে নিযুক্ত আছে। রোস্টার ডিউটি করলে তাদের ভাইরাস থেকে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কম থাকে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে পারছেনা। তারা পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে বিষণ্ণতাও কাজ করতে পারে। পিছিয়ে পড়তে পারে এটা নিয়ে শংকা কাজ করতে পারে। এরকম এক অনিশ্চয়তার মধ্যেই মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম আশীর্বাদের মত। এতে শিডিউল পিছিয়ে পড়ার আশংকাও কমে যায়। তাই সার্স কোভ-২ কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয় কিছুকার্যকর উপায় বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যে পদক্ষেপগুলো মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে

বিজ্ঞাপন

ফাইল ফটো

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তাই দ্রুততম সসময়ে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা, শিক্ষা দেওয়া এবং শিক্ষা লাভ করা শুরু হয়েছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীর উভয়পক্ষের পূর্বঅভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও এ ব্যবস্থা আশার আলো জাগিয়েছে। আমরা এটাকে গ্রহণ করতে পেরেছি। ছাত্রছাত্রীরা সুফল ভোগ করছে।
এ ব্যবস্থায় দুভাবে শিক্ষা দান করা যেতে পারে। প্রথমত ট্রাডিশনাল শিক্ষাকার্যক্রম পদ্ধতিতে শিক্ষা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া। শিক্ষকরা তাদের লেকচার রেকর্ড করে আপলোড করতে পারে। লেকচার পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্ট, পিডিএফ ডকুমেন্ট, অথবা টেক্সট ও অন্যান্য হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। লেকচারের সময় ঘণ্টা অনুযায়ী ১-২ ঘন্টার হতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রচুর সময় এবং শ্রম দিতে হবে। এক্ষেত্রে ছাত্রদের ইনপুট কম পাওয়া যায় বা একেবারেই পাওয়া যায়না। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের বাসায় লেকচার শোনার মত পরিবেশ ও স্থান অনুপস্থিত থাকতে পারে। কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এতে মনোযোগ বিভ্রান্ত হতে পারে। অনেকের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ নেই, শুধু মোবাইল আছে, অনেকের নেট নেই, ইন্টারনেট প্রাপ্যতা কম, কানেকশন কম, কানেকশনের সংযোগ গোলযোগের সম্ভাবনা আছে। এসব ক্ষেত্রে লেকচারের রেকর্ড সময় ঘন্টা কম করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের সাথে সরাসরি আলোচনার সুযোগ কম থাকে। তাছাড়া এক্ষেত্রে সফলতার জন্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার বিষয়টিও জড়িত।

ক্লিনিক্যাল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু লেকচার দিয়েই সম্পূর্ণ শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ রোগীদের সাথে ছাত্রছাত্রীদের ম্যানেজমেন্ট কর্মদক্ষতা অতি জরুরী, যা অনলাইনে সীমিত। যারা ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন, তারা প্রতিদিনের মাইক্রোস্কোপ ও অন্যান্য মেশিন থেকে লব্ধ ব্যবহারিক জ্ঞানার্জন হতে বঞ্চিত হচ্ছেন, যেটা অনলাইনে অর্জন করা সীমিত। দ্বিতীয়ত, দ্বিমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা ফেসবুক, ম্যাসেন্জার, হোয়াটস অ্যাপ, জুম ইত্যাদি অ্যাপসের মাধ্যমে পারস্পরিক শিডিউল বোঝাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষক লেকচার দেবেন। ফেসবুকের মাধ্যমে শিক্ষক ভিডিও ক্লিপ আপলোড করতে পারেন, ম্যাসেন্জারেও ভিডিও আপলোড করা যায় অথবা চ্যাটের মাধ্যমে অথবা গ্রুপ তৈরী করে বেশ কয়েকজনের সাথে লেকচার শেয়ার করা যায়, কিন্তু এখানে ছাত্রছাত্রী সংখ্যার সীমাবদ্ধতা এবং লেকচার সরাসরি উপস্থাপনের বাধা আছে। হোয়াটসঅ্যাপেও ছাত্রছাত্রী সংখ্যার সীমাবদ্ধতা এবং উপস্থাপনের বাধা আছে, কানেকশনের গোলযোগের সমস্যা আছে। জুম অ্যাপসের ক্ষেত্রে আবার ছাত্রছাত্রী সংখ্যার বাধা থাকেনা, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগে লেকচার নেওয়া যায়, মোবাইল, ল্যাপটপ অথবা পিসিতেও নেওয়া যায়। ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে এবং সাথে সাথে উত্তরও পেতে পারে। এতে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ছাত্রছাত্রীরা তাদের কারিকুলামের বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে পারছে, তারা উৎসাহ পাচ্ছে এবং লাভবান হচ্ছে। এটা আদানপ্রদানমূলক শিক্ষার এক উত্তম দৃষ্টান্ত। তাই প্রতিটি বিভাগে অনলাইন ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে টেকনোলজি বিষয়ে পূর্বঅভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে নিতে হবে, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তাই এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। এটা এ কোভিড-১৯ সময়ে চলমান যা ফলপ্রসু হচ্ছে।

এভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে এ শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্ব্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অনলাইন কার্যক্রমের সঠিক এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল মেডিকেল শিক্ষাকার্যক্রমে এ এক নতুন মাত্রা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)