চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোন ইস্যু নতুন সরকার কীভাবে সামলাচ্ছে, জনগণ তা দেখছে

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই আলোচনায় সরকার। কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন, পুরনোরা কেন বাদ গেলেন, জোটের অবস্থা কী হবে, দায়িত্বশীলরা কেমন করবেন, এরকম নানা আলোচনা চারদিকে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে গ্রামের চায়ের দোকানে জমজমাট আলোচনা চলছে।

এসব আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর্ষণকাণ্ড, শ্রমিক অসন্তোষ এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের নতুন নতুন কথা ও তাদের ছবি নিয়ে বিতর্ক। শ্রমিক অসন্তোষ কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পেরেছেন নতুন সরকারের দুই মন্ত্রী, যদিও এক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরকম আরও দুঃখজনক ঘটনা সামনের দিনগুলোতে আসতে পারে। পরপর তিনবারের এই সরকারের উপরে পক্ষ-বিপক্ষের অনেক প্রত্যাশা-দাবি ও নজর রয়েছে বলে আমাদের মনে হয়।

নির্বাচিত একটি সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে কাজ করে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও অনেকসময় নানামুখী পরিস্থিতিতে লক্ষ্য পরিবর্তন হতে পারে। এ বিষয়টি কিছুটা খোলাসা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের ফার্স্ট প্রায়োরিটি মাদক। এর সঙ্গে দুর্নীতিও আছে। তবে এবার সুশাসনের বিষয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া হবে। এসব বিবেচনায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ফেসেস (নতুন মুখ) নিয়ে তার কেবিনেট (মন্ত্রিসভা) সাজিয়েছেন।’

Advertisement

এছাড়া বিরোধী জোটের বিভিন্ন ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তিনি সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। নিজ জোটের শরীকদের সঙ্গে মন্ত্রিত্ব নিয়ে সর্ম্পকের বিষয়েও তাকে কথা বলতে হয়েছে। জোটের শরীকদের প্রতিক্রিয়া এসেছে।

কোন বিষয়টি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করছে, জনগণ তা লক্ষ্য করছে গুরুত্বের সঙ্গে।

দেশের জনগণ রাজনৈতিক কথাবার্তার চেয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে পছন্দ করে। শান্তিপ্রিয় জনগণ ঝামেলা পছন্দ করে না বলেই অনেক অসঙ্গতি নিয়ম বলেও মেনে নেয় অনেকসময়। কিন্তু সেই সঙ্গে তারা সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের প্রতি বিশ্বাস রাখে ও একাত্মতা দেখায় ঐতিহ্যগতভাবে।

জনগণের এই আচরণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন এই সরকারের ‘প্রায়োরিটি’ ঠিক করা দরকার বলে আমরা মনে করি।

আমাদের আশাবাদ, কোনো কিছু বাস্তবায়নে অহেতুক তাড়াহুড়া না করে ও নানামুখী বিতর্ক এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার জনগণের আস্থা অর্জন ও তাদের ইশতেহার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্রিয় হবে।