চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোনো অবস্থা বা কারণেই বাংলাদেশের ভয় পাওয়ার কিছু নেই

মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রাণের ভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বিশ্বদরবারে অাজ প্রশংসিত। তবে এসব রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়ার ফলে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক ভূ- রাজনীতির ষড়যন্ত্র এবং মিয়ানমারের উস্কানি নিয়ে বাংলাদেশ কতটুকু ঝুঁকিতে আছে?  এ বিষয়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন:

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ একটা বড় দেশ। জনবসতির ঘনত্বের বিবেচনায় পৃথিবীতে অতুলনীয়। এত ঘনভাবে আর কোনো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস পৃথিবীতে নাই।একক ভাষা নির্দেশ সম্যকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রেও এই দেশের সাথে তুলনাযোগ্য কোনো দেশ নাই।

বিজ্ঞাপন

এই দেশের ঋতু যে কেবল ছয় ছয়বার বদলায় তাই না, বছরের বেশ বড় একটা সময় এ ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকা পায় জলসুরক্ষা। এই ঋতু-বৈচিত্র ও বিস্তৃত জলরাশির সাথে পেরে ওঠার অভিজ্ঞতা বিশ্বে কেবল এ ভূখণ্ডের মানুষেরই রয়েছে।

এই ধরনের জল, ভূমি ও মনুষ্য-সংস্থান দুনিয়ার অন্যদেশগুলোর অভিজ্ঞতা বহির্ভূত।এই দেশের যে কোটিরও অধিক সংখ্যক মানুষ ছড়িয়ে আছে বিশ্বময় তাদের জন্মভূমির প্রতি টান, অনুমান করি জগতে অতুল। দেশ মাতৃকার যে কোনো বিপদে এঁরা যে সর্বোচ্চ সম্পদ-সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসে জন্মভূমির প্রতি আনুগত্য করবে- তার নানান সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। প্রবাসীর এমন দেশানুরাগও বিশ্বে বিরল বলেই অনুমান।

এই ভূখণ্ডের মানুষ এতো অদ্ভুত যে, হাজার বছর সংস্কৃত-পণ্ডিতদের দুনিয়া ছাড়া পাণ্ডিত্য সহ্য করলেও সে সংস্কৃত ভাষাটা গ্রহণ করেনি। ফার্সিকে রাজভাষা হিসেবে স্বীকার করেছে কিন্তু নিজের ভাষা হিসেবে মুখে তুলে নেয়নি। দুইশত বছর ইংরাজরা শত কসরত করেছে, দু শতাংশ মানুষকেও ইংরাজির বশ করতে পারেনি। ভিনভাষা নিয়ে ত্যাক্ত এই মানুষগুলা উর্দুওয়ালাদের পাছায় এমন কষে লাত্থি লাগিয়েছিল যে পাকিস্তান দেশটাই ভেঙে যায়।

এই দেশের মানুষ নতুনতর ধর্ম-দর্শন-জ্ঞান-সংস্কৃতি দ্রুতই গ্রহণ করে কিন্তু নিজ-প্রতিভাগূণে সেসব এক্কেবারে নিজের মতো করে বদলে নিতেও বিলম্ব করে না। এই দেশের বিপুল মানুষ কখনো বিলাসে গা ভাসায়নি। এমন কষ্টসহিষ্ণু মানুষকে নতুন করে ভোগানো কঠিন।

মানুষের সংখ্যা-ঘনত্বে অতুলনীয় বিশাল, নানান বিচারে-প্রকারে অভিনব এই দেশটিকে বিশ্বরাজনীতি যদি যথাযথভাবে বুঝেসুঝে সমীহ না করে, তাহলে, বিশ্ববাসী শান্তিতে থাকবে না। বাংলাদেশ কোনো ছোট-পাতলা দেশ নয় যে একে নিয়ে আজও খেলা যায়। ভাষাভিত্তিক এক মাত্র রাষ্ট্র এই বাংলাদেশ ভাল না থাকলে বিশ্বের সব দেশেই তার প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হয়ে উঠবে। বিশ্বমোড়লদের এই কাণ্ডজ্ঞাণটুকু থাকার কথা। মৌচাকে খোঁচাখুঁচি কোনো বিবেচকের কাজ যে নয় তা তারা জানে। আর তাদের এই বিবেচনার বাধ্যবাধকতাই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির শক্তির দিক।

বাংলাদেশকে ভয় না পাক কিন্তু এর বিশেষত্বকেও যদি ভক্তি না করে কেউ লড়তে-খেলতে যায়, তার পরিণাম জগতবাসীর জন্য সুখকর হবে না। প্রতিইঞ্চি ভূমিকে পদতলে রাখার মতো বিপুল জনসংখ্যা আর অতুল মানস-বৈচিত্র নিয়ে এর টিকে থাকার যোগ্যতাই এর রক্ষাকবচ।

কোনো অবস্থা বা কারণেই বাংলাদেশের আজ আর কিছুতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। আর ন্যায়-যুদ্ধে তো নয়-ই। যদিও ভয় দেখিয়ে তাবে ও বাগে রাখার জন্য দুষ্ট-ভিনদেশীদের পাশাপাশি শিক্ষিত-বাঙালীরও ষড়যন্ত্র যাত্রার অন্ত নাই। তাদের মনে থাকে না- এই দেশ মাথা নোয়াবার দেশ নয়।

Bellow Post-Green View