চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোটি টাকার ‘মায়া’!

অবশেষে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আসছে ২৭ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’। ছবির পরিচালক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা মাসুদ পথিক। মুক্তির আগে ‘মায়া’ নিয়ে নিজের দীর্ঘ জার্নির কথা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ খ্যাত এই নির্মাতা।

অনুপ্রাপ্ত ছবি হিসেবে নির্ধারিত সময়ে ছবির কাজ শেষ করতে না পারার কারণ, ছবির দৃশ্য ধারণ, বাজেট এবং ছবিটি নির্মাণ করতে যেয়ে আর্থিক সংকটের কথা অকপটে বলেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ছবি নির্মাণে বেশি সময় লাগার কারণ জানিয়ে মাসুদ বলেন, আমার দুর্ভাগ্য হলো যখন আমি সরকারি অনুদান পেলাম তখন ফিচার লেন্থের জন্য দেয়া হতো ৩৫ লাখ টাকা। পরবর্তী অর্থ বছরে সেটা হলো ৪০ লাখ, এরপর ফিচার লেন্থের জন্য ঘোষিত হলো ৬০ লাখ টাকা, আর এবছর তো অনুদানপ্রাপ্ত ছবির জন্য ১ কোটি টাকা ঘোষিত হলো। অথচ আমি যে বিষয়টি নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছি, এটি কোনোভাবেই অনুদানে পাওয়া অর্থ দিয়ে শেষ করা সম্ভব ছিলো না। তাই অর্থ যোগার করতে বেশ সময় চলে যায়।

‘মায়া’র বাজেট কতো? এমন প্রশ্নে নির্মাতা বললেন, এই ছবির নির্মাণ ব্যয়, প্রচার-প্রচারণা মিলিয়ে খরচ ধরেছি এক কোটি ৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ছবির নির্মাণ ব্যয়ে খরচ হয়েছে ৯০ লাখ এবং ১৫ লাখ ছবির বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণায়।

কিন্তু কোটি টাকার ছাপ কি পাওয়া যাবে ‘মায়া’য়? নির্মাতা বললেন, আমি দীর্ঘ সময় নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করায় হয়তো খরচ একটু বেশি হয়েছে। কিন্তু এই ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে কোথাও কম্প্রোমাইজ করিনি। দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখলেই বুঝতে পারবেন, আমার দ্বিতীয় ছবিটি কতোটা ভালো কিংবা মন্দ হয়েছে!

ছবিটি নির্মাণ করতে যেয়ে প্রচুর আর্থিক সংকটের কথা জানান মাসুদ পথিক। বললেন, এই ছবি করতে গিয়ে আমি সবকিছু হারিয়েছি। নিজের জমি বিক্রি থেকে শুরু করে পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও প্রচুর অর্থ ধার করে এনেছি। এখনো ২৫ লাখ টাকা লোন আছে। তিনি আরো বলেন, আমার সিনেমায় মিউজিক করেছে ইমন চৌধুরী, সাউন্ডের কাজ করেছে রিপন নাথ। এরকম আরো অনেকেই আছেন, যাদের রিমুনারেশন ধরে রেখেছি, কিন্তু এখনো তাদেরকে এক পয়সাও দিতে পারিনি।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে নিজের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে এই নির্মাতা বলেন, আমার জানামতে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আলাদা করে এখন পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র নির্মিত হয়নি, ‘মায়া’-ই হবে তাঁদের নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবি। এই ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছি, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি, কিন্তু কখনোই আন্তরিকতার অভাব বোধ করিনি। অন্তত এই কারণে, সবার কাছে আবদার ছবিটি যেন হলে এসে দেখেন।

শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘ওমেন’ এবং কবি কামাল চৌধুরীর ‘যুদ্ধশিশু’ কবিতা অবলম্বনে ‘মায়া’র চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন পরিচালক নিজেই। ছবিটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এই নির্মাতা জানালেন, এই সিনেমায় নতুন বাংলা, বাংলা মাকে পাবেন এটা আমার বিশ্বাস।

‘মায়া’ সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন, মুমতাজ সরকার (ভারত), প্রাণ রায়, জ্যোতিকা জ্যোতি, দেবাশীষ কায়সার, সৈয়দ হাসান ইমাম, ঝুনা চৌধুরী, নারগিস আক্তার, লীনা ফেরদৌসী, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, আসলাম সানী ও মজিদ প্রমুখ।

ব্রাত্য ক্রিয়েশন প্রযোজিত এই সিনেমাটিতে গান করেছেন, ইমন চৌধুরী, বেলাল খান, কুনাল, ঐশী, পুজা ও মমতাজের মতো শিল্পীরা।