চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোটা আন্দোলনকারীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘হ্যাকড’

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চলছে

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সবচেয়ে বড় অনলাইন প্লাটফর্ম ফেসবুক গ্রুপটি হ্যাকড হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। তবে গ্রুপটি উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার রাত থেকে কোটা ‘সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে)’ প্রায় ২৩ লাখ ৩ হাজার সদস্যের এ গ্রুপটি হ্যাকড বলে জানিয়েছেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: সোমবার রাতে আমাদের গ্রুপটি হ্যাক করা হয়। ব্যাপারটি অবহিত করতে আমরা ফেসবুক লাইভেও কথা বলে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করেছি।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ গ্রুপটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, এর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে একটি পোস্টে লিখেছেন: কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য) গ্রুপটা হ্যাকড হয়েছে। আমাদের গ্রুপ এডমিন থেকে রিমুভ করে দেয়া হয়েছে।

আমাদের নামে পেজ খুলে সেই পেজগুলোকে এডমিন বানানো হচ্ছে। আমাদের নামে এখন গ্রুপে কোন পোস্ট হলে সেগুলা বিশ্বাস করবেন না।

‘বিভ্রান্তি ছাড়ানোর জন্য এমন কাজ করা হয়েছে। এ এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। সবাই সর্তক থাকুন।’

গ্রুপ ঠিক হয়ে গেলে লাইভে এসে ব্যাপারটা নিশ্চিত করা হবে বলেও লিখেন তিনি।

এই গ্রুপটি থেকেই মূলত আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নির্দেশনা এবং ঘোষণা দিতেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস হয়েছে, কোনো বিভাগে হয়নি

পরীক্ষা হয়েছে, ক্লাস হয়নি বেশিরভাগ বিভাগে
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও ক্লাস হচ্ছে, কোথাও হচ্ছে না। তবে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নুরুল হক নুর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বেশিরভাগ বিভাগেই ক্লাস হয়নি। কয়েকটি বিভাগে ক্লাস হয়েছে বলে শুনেছি।

প্রজ্ঞাপণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলেও জানান তিনি।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র ধর্মঘট চালিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচী শেষে শাহবাগ অবরুদ্ধ করে তারা।

সোমবার পৌনে ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড়ের সবগুলো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হবে- প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আশ্বাসের পর আন্দোলনরতরা সন্ধ্যায় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।  তবে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

শাহবাগে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরু বলেন: প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমাদের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোটা নিয়ে প্রজ্ঞাপন হবে। তার এ আশ্বাসের কারণে রাজপথ থেকে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলাম।

তবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Bellow Post-Green View