চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোচিং সেন্টারের আড়ালে হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম

কল্যাণপুরে আর্টিসান নামের একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছিল তারেক মোহাম্মদ ফয়সাল (৩০)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের আড়ালে হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তারেক সংগঠনটির মেন্টর পর্যায়ের এক নেতা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফারাবী খান অনিক (২১)। কল্যাণপুর মাঠে নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সময় পরিচয় হয় তারেক, প্রাঙ্গন এবং তানভীর নামে কয়েকজনের সঙ্গে। সেসব বন্ধুদের আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হন হিযবুত তাহরীরের মতাদর্শে। এভাবেই একসময় হয়ে উঠেন সংগঠনটির একটি গ্রুপের নেতা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শনিবার দিনগত রাতে কল্যাণপুরে গোপন বৈঠক চলাকালে তারেক ও ফারাবীসহ হিযবুত তাহরীরের ৫ সদস্যকে আটক করে র‍্যাব-৪।

অন্য আটকরা হলেন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজের ছাত্র তানভীর আহম্মেদ (২১) ও মোস্তফা মোরসালীন প্রাঙ্গন (২২), তেজগাঁও কলেজের ছাত্র জামিনুর রেজা নবীন (২৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান লিফলেট, সংগঠনের বিভিন্ন বইয়ের সফটকপিসহ ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে কারওয়ানবাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, তারেক কল্যাণপুরের আর্টিসান কোচিং সেন্টার পরিচালনা করত। অনলাইনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৩ সাল থেকে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

তানভীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মার্কেটিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বর্তমানে সে হিযবুত তাহরীর একজন কর্মী সংগ্রাহক ও মিরপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত।

প্রাঙ্গন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ফিন্যান্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। জামিনুর রেজা নবীন তেজগাঁও কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। দুজনেই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারাবী কল্যাণপুর মাঠে ক্রিকেট খেলার সূত্রে পরিচিত তারেক, প্রাঙ্গন ও তানভীরের মাধ্যমে হিযবুত তাহরীরে উদ্বুদ্ধ হয়। পরে সংগঠনের একটি গ্রুপের নেতৃত্বে চলে আসে সে। ফারাবী নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করতো।

সদস্যরা প্রায়ই একসঙ্গে বৈঠকে বসে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলতো। উদ্ধারকৃত লিফলেটে দেখা যায়, তারা সকল রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছিলো।

তারা একত্রিত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন উল্লেখ করে র‍্যাব-৪ প্রধান বলেন: আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে এর কোন সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়নি। অতীতের মতো নিয়মিত নাশকতার পরিকল্পনার মত এবারও পরিকল্পনা করে আসছিল।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের নেতৃত্ব পর্যায়ের সদস্য রয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।