চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কে বলে রে ‘বৃদ্ধ’ তারা

৬৬ বছর বয়সী একজন মানুষকে কী বলা যায়? মধ্যবয়সী কিংবা বৃদ্ধ? রানার চ্যানেল আই বিচ ফুটবলে মাঠে নামা নুরুল হক মানিককে দেখলে আপনি কোনোটি বলতে পারবেন না। যেমনটি পারলেন না কক্সবাজারের কলা বিক্রেতা সুরজ মিয়া।

শনিবার সকালে সুরজ মিয়া কলা বিক্রি বাদ দিয়ে সিগাল পয়েন্টে খেলা দেখতে আসেন। বৃহস্পতিবারও ছিলেন। সেদিন চোখের সামনে নুরুল হক মানিককে হ্যাটট্রিক করতে দেখে তার চোখ কপালে উঠে যায়। তৃতীয়দিন মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে মানিকের বয়স নিয়ে আরেকজনের সঙ্গে তর্ক করছিলেন।

আলফাজ-মানিক

এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন মানিকের বয়স ৬৬ বছর। এরপর এক তরুণের সঙ্গে তার তর্কের শুরু। রুবেল নামের ওই তরুণ দর্শক মানিককে ‘বুড়ো’ বলতে চান। সুরজ মিয়ার তাতে বেজায় আপত্তি। এই বয়সটাকে তিনি কিছুতেই বুড়ো বলতে দিতে চান না।

‘মানিক ভাইয়ের খেলা দেখলে কে বলবে সে বুড়ো। এর মধ্যে দুইবার হ্যাটট্রিক করেছেন,’ বলছিলেন সুরজ।

শুধু মানিক নন। রানার-চ্যানেল আই বিচ ফুটবলে সব সাবেক ফুটবলাররাই অংশ নেন। ছয় বছর ধরে এই নিয়ম চলছে। শেখ মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদের মধ্যে বর্ষীয়ান ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মাঠ মাতাচ্ছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও ওয়াফ (ফুটবলের জন্য আমরা)-এর সহযোগিতায় চ্যানেল আই ছয় বছর ধরে আয়োজন করছে এই বিচ ফুটবল। ওয়াফের এক কর্মকর্তা এদিন জানালেন বর্তমান যুগের ফুটবলারদের কোনোভাবে এই টুর্নামেন্টে যোগ করা যায় কি না, সেটা তারা ভেবে দেখবেন।

লম্বা শট নিচ্ছেন কায়সার হামিদ

সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ অতটা বয়সী নন। পঞ্চাশের আশেপাশে। খেলা ছাড়ার পরও যে ফিটনেস ধরে রেখেছেন তাতে বিস্ময় জাগারই কথা।

Advertisement

মোহামেডান মাস্টার্সের হয়ে নুরুল হক মানিক আর আলফাজ আহমেদ ঝাঁকে-ঝাঁকে গোল করছেন। দুজনে আক্রমণভাগে খেলছেন। দারুণ বোঝাপড়া। একদিন আলফাজ হ্যাটট্রিক করছেন তো, আরেকদিন মানিক হ্যাটট্রিক করছেন। শনিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে তারা ফাইনালে চলে এসেছে। বিকেল ছয়টায় তাদের প্রতিপক্ষ আবাহনী মাস্টার্স। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।

বলের পেছনে ছুটছেন আলফাজ এবং মানিক।

মানিকের শক্তি মূলত ড্রিবলিংয়ে। ইনসাইড-আউটসাইড করে কাট করার ক্ষমতা এখনো চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার জোড়া গোল করার দিনে দ্বিতীয় গোলটি ওইভাবেই করেছিলেন। দুজনকে কাট করে বেরিয়ে যান। তৃতীয়জনকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের বল বাঁ পায়ে নিয়ে গোল করেন।

আলফাজ তার সেই বিখ্যাত বাঁকানো শট এখনো ধরে রেখেছেন। বালির ভেতর খেলা হওয়ায় ওইভাবে নিখুঁত শট নেয়া কঠিন। তবু আলফাজ আর মানিক যা করছেন তাতে জাতীয় দলের বর্তমান স্ট্রাইকাররা লজ্জায় পড়ে যাবেন।

আলফাজ আর মানিকের মিল আছে আরও। দুজনই গোল করার পর গ্যালারির দিকে কাকে যেন ইশারা করেন। শুক্রবার আলফাজ মাঠ ছাড়তে ছাড়তে বলে যান, যেদিকে তিনি হাত নাড়েন, সেখানে বসে থাকেন তার সহধর্মিণী।

আর নুরুল হক মানিক?

কিছু বলতে চাইলেন না। হয়তো বয়স একটু বেশি বলে লজ্জাটাও বেশি। হাসি দেখে বেশ বোঝা যায় মনটা তার এখনো তরুণ।

ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন