চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেরি নাকি হাসিনাকে টুপি খোলা অভিবাদন!

তার সময়ে সেরা রাজনীতিটা করে চলেছেন তিনি। উদাহরণ আসছে একে একে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানে আমেরিকা নামে পৃথিবীতে একটি বড় এবং মহাশক্তিধর দেশ আছে। নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশের জন্মকালে ওই দেশটি নীতিগতভাবে, মানসিকভাবে এবং সামরিকভাবে প্রবল বিরোধিতা করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাধ মিটিয়ে দিতে সপ্তম নৌবহর পর্যন্ত ঠিয়েছিল।

আর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যেন না খেয়ে মরে তার জন্য খাদ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেনি দেশটি। সে সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করতেও ছাড়েনি। এমনকি নিকট অতীতে এক যুদ্ধপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন।

সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ২৯ আগস্ট দিল্লি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ নামলেন। ঝটিকা সফরে অনেক কাজ তিনি করেছেন। তার মধ্যে বিশেষ করে দাগ কাটার মতো ঘটনাটি হলো ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার পিতার প্রতিকৃতির সামনে শেষ পর্যন্ত দাঁড় করাতে পারলেন আমেরিকাকে। আর জন কেরি জাদুঘরের পরিদর্শন বইতে লিখলেন:
What a tragedy to have such brilliant and courageous leadership stolen from the people of Bangladesh in such a moment of violence and cowardice. But today, Bangladesh is growing in the vision of Bangabandhu- and under the strong leadership of his daughter. The United States is proud to be a friend and strong supporter of the fulfillment of his vision. We look forward to growing and working together for peace and prosperity.
Warm regards,
John F Kerry

জনাব কেরির ভাষ্যে বোঝা গেল বাংলাদেশের বন্ধু হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র এখন গর্ববোধ করে। তিনি এটাও জানান দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার কন্যা শেখ হাসিনার ভিশনে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জুগিয়ে যাবে। এসব দেখে শুনে দেশের জন্য প্রাণ দেয়া কীর্তিমান পুরুষ জহির রায়হানপুত্র বিপুল রায়হান ফেসবুকে একটা কথা লিখেছেন, ‘৩২ নম্বরে জন কেরি। এমন অংক মার্কিনিদের পক্ষেই মেলানো সম্ভব। ১৯৭১, ১৯৭৫, ২০১৬। যোগফল কী বলে পাঞ্জেরী?’

বিজ্ঞাপন

দুই.
একাত্তরের ঘাতক, আলবদর নেতা মীর কাসেম আলী আইনী লড়াইয়ে চুড়ান্ত পর্যায়ে পরাজিত হয়েছে। ফাঁসির দড়ি খুব নিকটে তার। এখন বাকি কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ‘প্রাণভিক্ষা’ চাওয়া। এটা মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের জন্য একটা স্বস্তির খবর। মীর কাসেম যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর টাকার বড় জোগানদাতা। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ধারণা করা যায় জামায়াত অর্থবলে একটু কাবু হবে। এর আগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, প্রভাবশালী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আমৃত্যু কারাবাসের দায় নিয়ে কারাগারেই মরতে হয়েছে প্রধান যুদ্ধাপরাধী, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আজমকে। ফাঁসির পরিণতি বরণ করতে হয়েছে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। মীর কাসেম আলীর ফাঁসি এখন সময়ের ব্যাপার বলা যেতে পারে।

৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশে পরাজিত শক্তি, যুদ্ধাপরাধীরা দাপটের সঙ্গে বেঁচে ছিল, রাজনীতি করেছে, ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে এই ধৃষ্টতা সইতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারগুলোকে। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাকে তা করতে দেয়া হয়নি। তার কন্যা সেটা কার্যকর করে এটা প্রমাণ করে দিলেন, অপরাধ করলে তার শাস্তি হয়। বিশ্ব অবাক তাকিয়ে দেখছে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

তিন.
স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর চরম প্রতিপক্ষ ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। অনেকে অংক কষে বলে দেন, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতাকে মসৃণ করে দিয়েছিল জাসদ এবং আরো কটি বাম দল। সেই জাসদ এখন সরকারের অংশ। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সরকারের তথ্যমন্ত্রী। স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টি-ঘর পোষা বিরোধী দল। আর বিএনপি, হা-রাজনীতি হয়ে দলটি এখন দিশেহারা। সংসদে নেই, রাজপথেও নেই। এমনি অবস্থা যে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছুটে যেতে হলো মার্কিন দূতাবাসে জন কেরির সঙ্গে দেখা করতে। নিজের ওপর, নিজের দল আর শরীকদের ওপর আস্থা হারিয়ে এখন দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে’ মার্কিনের সহায়তা চাইলেন তিনি।

এসব দেখে, শুনে, যতটা বোঝা যায় বুঝে, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটা টুপি খোলা অভিবাদনতো জানানোই যায়! আর বলা যায়, তিনি তার সময়ের সেরা রাজনীতিটা করছেন এখন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল
আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন