চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেরালায় একমাত্র আসন হারিয়ে ‘ভিন্ন কৌশল’ বিজেপির

২০১৬ সালে যেই একটি আসন ঝুলিতে এসেছিল, এবার সেটিও হাতছাড়া হয়েছে। তবে সে রাজ্যে ভোট শতাংশ ক্রমেই বাড়ছে বিজেপির। এই পরিস্থিতিতে ‘দুর্বল’ কংগ্রেসের জায়গা দখল করে বাম বিরোধী ভোটের মেরুকরণ করার ছক কষে ২০২৬-এর সমীকরণ কষতে চাইছে দলটি।

হিন্দুস্থান টাইমস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে বিজেপি ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’-এর স্লোগান তুলেছিল। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের বিধায়কদের নিজেদের দলে নিয়ে একাধিক রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। সম্প্রতি পুদুচেরিতেও এই ঘটনা ঘটে। এই আবহে কেরালা বিজেপির দাবি, কংগ্রেসের অনেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘এটা সত্যি ঘটনা যে নির্বাচনের আগে কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে বিজেপি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে এখানকার রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমে বিজেপি এখানে ওদের জমি ফিরে পাক। তারপর না হয় ওরা আমাদের বিধায়কদের দলে নেবে।’

কংগ্রেসের দাবি, সিপিএম-এর সঙ্গে বিজেপি বোঝাপড়া করেছে যাতে কেরালায় কংগ্রেসের শক্তি কমে যায়।

এই আবহে কংগ্রেসের অন্দরে দাবি উঠেছে যে কন্নুরের বাহুবলী সাংসদ কে সুধাকরণকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে বসানো হোক। তাতে নিচু তলার কর্মীরা উদ্বুদ্ধ হবে এবং এর ফলে নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যাবেন না।

একুশের নির্বাচনে কংগ্রেস ৯৫টি আসনে লড়ে ২১টিতে জিতেছে। আর বিজেপি ১১৩ আসনে লড়ে কোনও আসনে জেতেনি। নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের মূল বক্তব্য ছিল, বামেদের বিরুদ্ধে একমাত্র তারাই বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তাদের সেই সমীকরণ কাজে আসেনি।

এমনকী মেট্রোম্যান ই শ্রীধরণকে নিয়ে এসেও সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। শুধু তাই নয়, প্রচার চলাকালীন কেরালার ফ্লাইট ধরেছেন মোদি-শাহ-নড্ডাসহ একাধিক বিজেপি হেভিওয়েট।

দলটির অভিযোগ, মেট্রোম্যানকে হারাতে কংগ্রেস ও সিপিএম হাত মিলিয়েছিল। এই আসনে সিপিএম মাত্র ৮ হাজার ভোট পায়। ক্রস ভোটিং না হলে মাত্র ৩ হাজার ভোটে হারতে হত না তাকে। এছাড়া রাজ্যে ৮টি আসনে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। মোট ভোট শতাংশ ১৪। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দু’টি আসন থেকে লড়েও বিধানসভায় যেতে পারেননি।

কেরালায় লাভ জিহাদ, সবরীমালাসহ একাধিক মেরুকরণের ইস্যু তুলেছিল বিজেপি। তাছাড়া সোনা পাচার কাণ্ড নিয়েও ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিল গেরুয়া শিবির।

তাই বিজেপির শোচনীয় ফল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি পিনারাই বিজয়নও। তবে বিজয়ন বিজেপিকে কটাক্ষ করে বকলমে তাদের রাজনৈতিক দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস শিবিরের।