চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেমন হবেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল?

আমাদের সংবিধান অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। যিনি দেশের যে কোনো আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে অংশ নেয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়াও বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ‘সেতুবন্ধনকারী’ ব্যক্তি হচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখলে এটা অনস্বীকার্য যে, একজন অ্যাটর্নি জেনারেল প্রকারান্তে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের (বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা) মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী। যিনি ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রমের ১৫ নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

প্রায় এক যুগ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেলের গুরুত্বপূর্ণ পদটি এখন শূন্য। এমন বাস্তবতায় কে হচ্ছেন রাষ্ট্রের পরবর্তী তথা ১৬ তম অ্যাটর্নি জেনারেল? আইন-আদালত অঙ্গনে এ নিয়ে কৌতুহল-আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই কৌতুহল হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ, কিছুদিনের মধ্যেই নিয়োগ পাবেন রাষ্ট্রের ১৬ তম অ্যাটর্নি জেনারেল।

সেক্ষেত্রে আমার মনে একটি নতুন প্রশ্ন জাগছে। আর সে প্রশ্নটি হচ্ছে, কেমন হবেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল? কারণ, প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত এমন প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করছে। ব্যক্তি মাহবুবে আলমের বিনয়ী আচরণ, প্রজ্ঞা, আইনী মেধা কিংবা অসহায় মানুষকে সহযোগীতার দৃষ্টান্তগুলো ছিল অতুলনীয়।

বিজ্ঞাপন

যদিও এসবের মাঝেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক, বিচারিক ও পারিপার্শ্বিক নানা ইস্যুতে তাকে বিরোধীপক্ষের তীর্যক সমালোচনা শুনতে হয়েছে। তবু নিজের পেশাদারিত্বে তথা আদালতে শুনানির সময় তিনি কাউকে ছাড় দিতেন না। এর বাইরে আদালত অঙ্গনের যে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে ছিলেন সদা সোচ্চার।

একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়াত মাহবুবে আলমের যে বিষয়টিকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করার তা হচ্ছে, ‘এক্সেস টু ইনফরমেশন।’ বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট বিটে কাজ করা সাংবাদিকদের আইন-আদালত কেন্দ্রিক তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম ছিলেন উদার। তথ্যের প্রয়জনে গভীর রাতে ফোন দিলেও তিনি কখনো বিরক্তি প্রকাশ করতেন না। আইনের ব্যাখ্যা কিংবা প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিতেন।

এক কথায় সাংবাদিকদের তিনি প্রতিপক্ষ নয়, ভাবতেন সহযোদ্ধা। এমন গুণ সাবেক অনেক অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষেত্রেই লক্ষণীয় ছিল না বলে জানান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা। তাই উচ্চ আদালত কেন্দ্রিক সাংবাদিকতায় অবাধ তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়াত মাহাবুবে আলম আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। রবীন্দ্রভক্ত এ মানুষটিকে স্মরণে রেখেই মনে প্রশ্ন; কেমন হবেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)