চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেমন আছে উত্তম কুমারের সাজঘরটি?

‘শুটিং এর প্রচণ্ড গরমে ঘেমে যেতেন উত্তম কুমার। কিন্তু তবুও কখনো এয়ার কন্ডিশন চাননি সাজঘরে। অথচ তিনি একটি এসি চাইলে চারটি দেয়া হতো।’ কথাগুলো বলছিলেন এনটি-ওয়ান স্টুডিওর সিনিয়র ম্যানেজার অমিত গোস্বামী।

১২ বিঘা জমির উপর নির্মিত প্রায় ৯০ বছরের পুরানো এনটি-ওয়ান স্টুডিওতে ঢুকলে বাম দিকে অল্প আগালেই মহানায়ক উত্তম কুমারের সাজঘর। এই স্টুডিওতেই শুটিং হয়েছে নায়ক, দেয়া নেয়া, সন্ন্যাসী রাজা, বাঘবন্দি খেলা, অগ্নীশ্বর সহ আরও অনেকগুলো জনপ্রিয় সিনেমার।

বিজ্ঞাপন

স্টুডিওতে মোট ২৫টি সাজঘর থাকলেও মহানায়কের সাজঘরটি সেই ১৯৮০ সাল থেকে আজও তারই রয়ে গেছে। উত্তম কুমার যখন শুটিং করতেন তখন সেটা টিন শেডের ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে গাছ পড়ে সাজঘরটি ভেঙ্গে যায়।

গত বছর সাজঘরটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। ১২০ স্কয়ার ফুটের ঘরটির ছাদের নীচে বসানো হয়েছে ফলস সিলিং। মেঝেতে বসানো হয়েছে সাদা টাইলস। দেয়ালেও সাদা রঙ। রুমে সাজিয়ে রাখা হয়েছে উত্তম কুমারের ব্যবহার করা আয়না, ইজি চেয়ার, মেকআপ টেবিল, আলনা, বিছানা। উত্তম কুমারের একজোড়া খড়মও রেখে দেয়া হয়েছে সাজঘরে। কর্তৃপক্ষ চাইছে উত্তম কুমারের সাজঘরটিকে জাদুঘর বানাতে।

এনটি-ওয়ান স্টুডিওর প্রোপাইটর সৌগত নন্দি বলেন, ‘রুমটি নতুন করে নির্মাণ করা হলেও খুব বেশি দর্শনার্থী আসেননি। একটা সময়ে সিনিয়র আর্টিস্টরা আসতেন সেখানে। তবে সেটাও মাঝে মধ্যে। নতুন প্রজন্মের অনেকে জানেনই না যে এখানে উত্তম কুমারের সাজঘর আছে।’

অমিত গোস্বামী খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন উত্তম কুমারকে। তিনি জানান, উত্তম কুমার খেতে খুব ভালোবাসতেন। একবারে ৮-১০টি মোগলাই পরোটা খেয়ে ফেলতেন। কাছের এক রেস্তোরাঁর বাবুর্চি বিকাল বেলা স্টুডিওতে এসে উত্তম কুমারের জন্য বিশেষ ভাবে পরোটা তৈরি করে দিতেন।

মানুষকে সাহায্য করতে খুব ভালোবাসতেন উত্তম কুমার। অনেক টেকনিশিয়ানকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু কখনোই সেগুলো বলতেন না কাউকে। স্পট বয়দের জন্য জমি কেনার টাকা যোগাড় করতে বেশ কিছু অনুষ্ঠান করেছিলেন তিনি। কিন্তু এসব বিষয় গোপন রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন উত্তম কুমার। -টাইমস অব ইন্ডিয়া

Bellow Post-Green View