চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সুশান্ত, দায় কার?

সুশান্ত সিং রাজপুতের মতো প্রতিভার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকগ্রস্ত গোটা অভিনয় জগত। তার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ভক্তদের মনে। তবে যেই বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে, তা হলো বলিউডের নেপোটিজম।

ঘটনার শুরু সুশান্তের একটি কমেন্টকে ঘিরে। অনেক দিন আগের সেই কমেন্টটি সুশান্তের মৃত্যুর পরে হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই কমেন্টে দেখা গিয়েছে, একজন ভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছিলেন, ছবিতে সুশান্তের চরিত্রের মৃত্যু দেখা যাবে। তাই তিনি ছবি দেখবেন না। উত্তরে অভিনেতা লিখেছিলেন, ‘আরে যদি আপনি ছবিটা না দেখেন, তাহলে তো উনারা আমাকে বলিউড থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। আমার তো কোনো গডফাদার নেই। তাই আমি আপনাদের সবাইকে আমার গড ও ফাদার বানিয়েছি। যদি চান আমি বলিউডে টিকে থাকি, তাহলে অন্তত একবার ছবিটা দেখুন।’ এই কমেন্ট সামনে আসার পর সুশান্তের মৃত্যুর অভিযোগের তীর ঘুরে গিয়েছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির দিকে। মনে করা হচ্ছে, সুশান্তের বিষণ্ণতার পেছনে বলিউডের স্বজনপ্রীতিই দায়ী।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন কঙ্গনা। তিনি এর আগেও বলিউডের নেপোটিজমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি ভিডিওতে অভিযোগ করেছেন, ‘কাই পো চে’, ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ এবং ‘ছিছোড়ে’র মতো সিনেমা করা সত্ত্বেও বলিউডে সুশান্তকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। স্বজনপোষণকারীরা সুশান্তের কাজের মূল্য দেয়নি। সেই হতাশা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন সুশান্ত, যা আসলে পরিকল্পিত খুনই।

বিজ্ঞাপন

ভাইরাল হওয়া সেই কমেন্টের প্রসঙ্গ টেনে ভিডিওতে কঙ্গনা আরও বলেন ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় সুশান্তের শেষ কিছু পোস্ট দেখুন, ছেলেটা হাতজোড় করে সবাইকে বলছিলেন, দয়া করে আমার ছবি দেখুন। আমার কোনও গডফাদার নেই। ছবি না চললে ইন্ডাস্ট্রি থেকে বের করে দেওয়া হবে আমাকে। ইন্ডাস্ট্রি সুশান্তকে আপন করে নিচ্ছে না, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এমন আক্ষেপও করেছেন সুশান্ত। বলেছেন, নিজেকে উচ্ছিষ্ট বলে মনে হয়। সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে এই ঘটনার কি কোনও যোগ নেই?’

কঙ্গনা বলেন, তার মতোই বাইরে থেকে এসে, শুধুমাত্র প্রতিভার জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে যায়গা করে নিয়েছিলেন সুশান্ত। কিন্তু বলিউডের প্রভাবশালীরা তা সহ্য করতে পারছিলেন না।

এদিকে, কমল আর খানের পুরনো একটি পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে যার মাধ্যমে জানা গিয়েছে, করণ জোহর, সালমান খান, যশ রাজ ফিল্ম, সঞ্জয় লীলা বানশালী, টি সিরিজ এবং বিশেষ ফিল্মস সুশান্তকে ব্যান করেছিল। ফলে ওয়েব দুনিয়া এবং ছোট খাটো ছবিতে কাজ করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। ক্যারিয়ার নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। জানা গেছে, শেষের দিকে অর্থ কষ্টও ছিল তার।

সুশান্ত যে নেপোটিজমের শিকার, সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন কয়েকজন নির্মাতাও। কারও নাম উল্লেখ না করে পরিচালক শেখর কাপুর লিখেছেন, ‘আমি জানি আপনি কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই লোকগুলোর কথাও জানি যাদের জন্য আমার কাঁধে মাথা রেখে আপনি কেঁদেছিলেন। গত ছয় মাস যদি আপনার কাছে থাকতে পারতাম বা আপনি আমার কাছে আসতেন…যা হয়েছে সেটা তাদের জন্য হয়েছে, কখনই আপনার জন্য নয়।’

বলিউডের পার্টিগুলোতে সুশান্তকে দেখা যেত না। তাকে পার্টিগুলোতে তাকে নিমন্ত্রণই করা হতো না। তবে মৃত্যুর পর শোকবার্তা দিয়েছেন প্রায় সব বলিউড তারকাই। তাদের আবেগভরা পোস্টের কমেন্ট বক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। বিশেষভাবে আঙ্গুল তোলা হয়েছে করণ জোহর এবং আলিয়ার বিরুদ্ধে। তাদের বলা হচ্ছে, ‘আপনারাই ব্যাঙ্গ করেছেন, এখন কুমিরের কান্না কাঁদবেন না।’

আলিয়া আর করণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে কফি করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি এপিসোডকে কেন্দ্র করে। সেই এপিসোডে হাজির ছিলেন আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সেখানে আলিয়াকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল রণবীর সিং, রণবীর কাপুর আর সুশান্ত সিং রাজপুতের মধ্যে কাকে কত রেটিং দেবেন। সুশান্তের নাম শুনে আলিয়া বলেছিলেন, ‘সুশান্ত সিং রাজপুত! তিনি আবার কে?’

ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। এই তিন নায়কের নাম উল্লেখ করেই করণ জোহর আলিয়াকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কার সঙ্গে ডেটে যেতে চান, কাকে বিয়ে করতে চান আর কাকে মেরে ফেলতে চান। আলিয়ার মেরে ফেলার তালিকায় নাম ছিল সুশান্তের। এরপর আলিয়া ও করণ জোহর হেসেছিলেন একচোট। পুরনো এই ঘটনাগুলো সামনে আসায়, ভক্তরা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারছেন যে পর্দার প্রাণবন্ত হাসির আড়ালে কতটা একা ছিলেন সুশান্ত।

রবিবার রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে বলিউডের তারকা অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের। এদিন দুপুরে মুম্বাইয়ের নিজ বাসা থেকে এই অভিনেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার পুলিশের দেয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন এই অভিনেতা। বিগত ছয় মাস ধরে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি।