চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেএস নবীর দুই নাতিকে নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্রয়াত কেএস নবীর দুই নাতিকে (শিশু) আগামি ১১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বাসায় নিরাপত্তা দিতে ধানমন্ডি থানার ওসির প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার বেলা বিকেলে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বাবা হারা ওই দুই শিশু তাদের ধানমন্ডির বাসায় ঢুকতে পারছে না জেনে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই শিশুদের বিষয়ে শনিবার মধ্যরাতে আদেশ দেন বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মধ্যরাতের ওই আলোচিত আদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রোববার সকালে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একাত্তর টিভির ‘একাত্তর জার্নাল’ টকশোতে যুক্ত ছিলাম। সেখানে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্রয়াত কে এস নবীর দুই নাতির (শিশু) অধিকার নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ওই শিশুদের বাবা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। তার আগে শিশু দুটির বাবা-মা’র বিচ্ছেদ হয়। একপর্যায়ে শিশু দুটির চাচা তাদের বাসা ঢুকতে দিচ্ছিল না বলে শোনা যায়। সে বিষয়টি নিয়েই গত রাতে টকশোটিতে আলোচনা হচ্ছিল। আর টকশোটি হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো.সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসালে তিনি রাতেই স্বপ্রণোদিত হয়ে শিশুদের বিষয়ে আদেশ দেন। আদেশে ওই দুই শিশুর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের বাসায় দিয়ে আসতে ধানমণ্ডি থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সাথে এই আদেশ বাস্তবায়ন করে রোববার সকাল ১০টায় হাইকোর্টে এবিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে ওই দুই শিশুকে যথাযথ নিরাপত্তাসহ বাসায় দিয়ে আসে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।’

এরপর রোববার দুপুরে ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী। এসময় আদালত ধানমন্ডি থানার ওসিকে বলেন, ‘আদালতের আদেশ কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় তা, আপনি গত রাতে দেখিয়েছেন। সেজন্য আপনাকেসহ পুলিশকে ধন্যবাদ।’

একপর্যায়ে আদালত ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়াকে বলেন, ‘আমারা আগামি ১১ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের দিন রাখছি। ওইদিন আমরা উভয় পক্ষকেই শুনবো। সেদিন ওই দুই শিশুর কথাও আমরা শুনবো। আপনি ওইদিন তাদের কোর্টে নিয়ে আসবেন। আর যেহেতু ১১ অক্টোবর পরবর্তী আদেশ তাই দেদিন পর্যন্ত আপনি (ওসি) দুই শিশুকে তাদের বাসায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেবেন। প্রয়োজনে ওই বাসায় ১-২ জন পুলিশ রাখবেন। সেই সাথে ওই বাসার সকলকে বলে দেবেন তারা কেউ যেন কোন বিশৃঙ্খলা না করেন।’

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা কেএস নবী ২০১৮ সালে মারা যান। তার দুই ছেলে মধ্যে ছোট ছেলে আইনজীবী সিরাতুন নবী গত ১০ আগস্ট মারা যান। আর বড় ছেলে কাজী রেহান নবীও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।