চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেউ কথা রাখেনি, রাখেনি কেউ খোঁজ

মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখা মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে অনেক কম, সেই বিরল মানুষদের একজন নিলুফা ইয়াসমিন | সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। তারপর দুই বছর হয়ে গেলে অনেকেই অনেক কথা দিয়েছিলেন কিন্তু কেউ তাদের কথা রাখেননি। রাখেননি কেউ খোঁজ ! তাদের প্রতিশ্রুতির সবই ফাঁকি!

এতদিন ধরে অনুদানের কিছু টাকা পেলেও বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যর প্রতিশ্রুতি ছিল শুধুই কাগজে কলমে। দিন এনে দিন খাওয়া নিলুফা ঠিকমত কাজ করতে পারেন না। চোখেও দেখে না। আর্থিক অবস্থাও খুব খারাপ। কথাগুলো বলতে বলতে বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি। আর তা সঙ্গে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় অন্য সবাই।

বুধরার সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড আয়োজিত ‘রানা প্লাজা ট্রাজেডি, কোথায় দাঁড়িয়ে আমরা’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় জীবনের করুণ এ কাহিনী তুলে ধরেন তিনি।

আলোচনার আগে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অ্যাকশন এইড এতে বলা হয়, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর বিদেশী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে বকেয়া ৮.৫ মিলিয়ন ডলার। এই চার প্রতিষ্ঠান হলো বোনটোন, ওয়ালমার্ট, দ্য চিলড্রেনস প্লেস ও ম্যাঙ্গো।

রানা প্লাজায় বেঁচে যাওয়া আরেকজন শাহাজাহান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বিকাশের মাধ্যমে তিনবারে অনুদানের ৪৬ হাজার টাকা পেয়েছি কিন্ত স্হানীয় প্রশাসন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকার কাগজে সাক্ষর নিয়েছে। আমি জানিনা কেন ঐ কাগজে সাক্ষর নিল।’  অনুদানের টাকা বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসলেও প্রাধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিলের অর্থ বলে কাগজে সাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অ্যাকশন এইডের প্রতিবেদনে বলা হয়,  ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১১৩৫ জনের বেশী মানুষ মারা য়ায়। যার মধ্য প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ২৪৩৮ জন। এদের মধ্য ৬৬.৭ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ২৮ বছর।  ৬৮.৬ শতাংশ বিবাহিত। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্য ৩৫ শতাংশ আবার গামের্ন্টসে ফিরেছে বাকি ৬৯ শতাংশ শারীরিকভাবে দূর্বল বলে কাজ করতে পারছেনা।

রানা প্লাজায় কর্মরত শাহাজাহান মিয়া নিজে উদ্ধার হয়ে আরও ৩৭ জনকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত
পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে আছেন তিনি।

Advertisement

শাহাজাহান বলেন,  আমার কোনো দুঃখ
নাই, সবাই যেন আমার মত সাহসী হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ ইস্রাফিল আলম বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু দিতে চেয়েছিলেন। কিন্ত কেউ কিছু দেয়নি সবই শুভংকরের ফাঁকি।’

দেশে যেন আর একটি রানা প্লাজা অথবা তাজরীন সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গার্মেন্টস সেক্টরে যারা কাজ করেন; তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটা সেন্টার করতে হবে । যাতে কখনও কেউ মিসিং হলে তাকে বের করা সম্ভব হয়।’

রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের উদ্দেশ্য ইস্রাফিল আলম বলেন, কারও কোন অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানান।  এতে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

ইতিমধ্যে ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘ইতিমধ্যে ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আইএলও এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ কাজ চলছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাহায্য দেওয়ার তিনি বিষয়ে বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার যদি ঢাকা কেন্দ্রীক হয়; তবে আমরা তাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করব।

অালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রানা প্লাজা কোর্ডিনেশন কমিটির কমিশনার ড. মোস্তবা কাজাজী  তিনি বলেন, ‘তিন হাজারের বেশী মানুষের ক্ষতিপূরন দেওয়া হয়েছে।