চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারের উচিৎ কাঠামো তৈরি করা: শাইখ সিরাজ

শাইখ সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ভূগোলে। ছাত্র জীবনেই সম্পৃক্ত হন গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ৩৯ বছর বয়সে উন্নয়ন সাংবাদিকতায় পান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক।

যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে অর্জন করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া তিনি পেয়েছেন ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ডস। ব্রিটিশ হাউজ অব কমেন্স তাকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন তাকে দিয়েছে গ্রিন অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির স্বর্ণপদক, ডা. ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদকসহ অর্ধশত দেশি বিদেশি পুরস্কার ও সম্মাননা।

বিজ্ঞাপন

শাইখ সিরাজ চ্যানেল আই, বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। তিনি এদেশে কৃষি প্রধান বাংলাদেশে নিরস বিষয় হিসেবে উপেক্ষিত কৃষিতে জাতীয় সংবাদের প্রধান খবরের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যা দেশের অন্যসব টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় অনুসৃত হচ্ছে।

শাইখ সিরাজের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, মৎস্য ম্যানুয়েল, মাটি ও মানুষের চাষবাস, ফার্মার্স ফাইল, মাটির কাছে মানুষের কাছে, বাংলাদেশের কৃষি: প্রেক্ষাপট ২০০৮, কৃষি ও গণমাধ্যম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (সম্পাদিত), আমার স্বপ্নের কৃষি, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (২০১১), সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১১), কৃষি ও উন্নয়নচিন্তা (২০১৩) ইত্যাদি।

সম্প্রতি চ্যানেল আই এর ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন রিজভী নেওয়াজ এবং গ্রন্থনা করেছেন রাজু আলীম।

প্রশ্ন: এবারের বাজেটের কোন কোন বিষয়গুলো কৃষিবান্ধব হয়েছে আপনার দৃষ্টিতে?
শাইখ সিরাজ: বাজেট নিয়ে তেমন কোনো বক্তব্য আসলে আমার নাই। কারণ কৃষি এমন একটা খাত যেখানে বাজেট কমলে তার প্রভাব পরবর্তীতে আলটিমেটলি প্রডাকশনে আসবেই। একটা বিনিয়োগ যদি প্রপারলি না হয় তা থেকে যে রিটার্ন আমরা চাই তা কখনো পেতে পারি না। অবভিয়াসলি- সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা কৃষিক্ষেত্রে আছে যেমন, সাবসিডিয়ারি ইস্যুগুলো- সার, বীজ, নন ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, উপকরণ এবং মেশিনারীজ। এইগুলো আছে বলে আমাদের অব্যাহত প্রোডাক্টিভিটি- ধানের বা আমন শস্যের প্রডাকশন বাড়ছে। এটার সাথে আমার কোন দ্বিমত নাই।

কিন্তু এবার যেটা আশা করেছিলাম আমি এবং আপমর বাংলার কৃষক তা হলো- বাজেটে একটা সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা থাকবে ফেয়ার প্রাইস ইস্যু নিয়ে। কৃষকরা দীর্ঘদিন ফসল ফলাচ্ছে কিন্তু তার মূল্য ঠিকমতো পাচ্ছে না। আজকে প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে বলে গ্রামীণ মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটেছে। অর্থাৎ আগে সে ১০ মণ পেতো আর এখন সে বেটার সিড বেটার টেকনোলজির জন্যে ৩০/৪০ মণ প্রডাকশন করছে। তাই ১০ মণের যে অতিরিক্ত উৎপাদন করছে এখন সেই বাড়তি টাকা দিয়ে তার জীবন মানের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু ৪০ মনের প্রপার প্রাইস যদি সে পেতো তাহলে তার জীবন মানের উন্নয়ন কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছাত? গ্রামীণ অর্থনীতি আরও বেশি বেগবান হতো।

এই বাজেটে নিয়ে একটা এক্সপেক্টেশন আপামর কৃষকের ছিল- আমার তো ছিলই। ন্যায্য দাম পাওয়ার জন্যে সরকারের উচিৎ একটি কাঠামো তৈরি করা- যা দিয়ে কৃষক সত্যি সত্যি ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে পারে। কারণ আজকে আমরা টেকনোলজির চূড়ান্ত পথে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। আইসিটি’র ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আমাদের হাতের মুঠোয় মোবাইল আছে- আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি ঢাকায় আজকের প্রাইস কতো। যদি এমন কোন একটা পোর্টাল থাকে যে, আমি সেখানে বলতে পারবো- আমার কাছে এতো টন টমেটো আছে বা এতো টন আলু আছে বা এতো টন ধান আছে- আমি এই প্রাইসে বিক্রি করবো। তাহলে কিন্তু এই টেকনোলজির কাছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কিন্তু কমে আসেতে পারে। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে ব্যাপকভাবে এতে কোন সন্দেহ নাই। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ না করলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে না এবং প্রডাকশন কস্ট কমবে না। কৃষিতে আইসিটি’র ব্যবহারের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।

প্রশ্ন: ৫৫ পারসেন্ট সবশেষ যে ডিউটি বাড়ানো হলো।এই বিষয়ে আপনি অনেক বার বলেছেন। এটি যদি এক বা দুই সপ্তাহ আগে বাড়ানো হতো তাহলে কি সমস্যা কি এতো ঘনীভূত হতো?
শাইখ সিরাজ: গত ১০/১২ বছরের মধ্যে ২০১৭ তে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি হয়েছে ৬০ লক্ষ মেট্টিক টন এবং আমদানীর পুরোটাই বেসরকারি পর্যায়ে হয়।এরপরে প্রডাকশনে কোনো ক্ষতি হয় নাই পরপর দুই বছর কিন্তু প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে। এই ৬০ লক্ষ টনের চাল কিন্তু মিলারদের বা আমদানীকারকের গোডাউনে আছে। এর বিপরীতে গত কয়েক বছরে আমাদের প্রোডাক্টিভিটিও বেড়েছে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না থাকার কারণে। সবকিছু মিলিয়ে কৃষকের যখন ধানটা উঠছে। মিলারদের তাদের ঘরের ভেতরেই চাল রয়ে গেছে। নতুন ধান কেনার পক্ষপাতি তারা নয়। অন্যদিকে ব্যাংকও এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী না। চালের বাজার স্থিতিশীল নাই। সবকিছু মিলিয়ে এই পরিস্থিতি হয়েছে। কথাটা আমি এইভাবে বলি যে, সরকার তার নিজের ক্যাপাসিটি কেন বাড়ায় না? এটি সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন?

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: আমাদের খাদ্য গুদামের অভাব- এই বিষয়ে আপনাপর ভাবনা কী?
শাইখ সিরাজ: এখন টেকনোলজি এমন জায়গায় গেছে- আগে খাদ্য গুদাম তৈরিতে যা ব্যয় হতো এখন কিন্তু তা নেই। এখন চালের বার্ষিক উৎপাদন ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টন । সেখানে সরকার ১৫ লাখ টন নিয়ে তিন কোটি ১০ লাখ টনের বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে কেমন করে? এটি আমি বহুবার বলেছি- এটি সরকারের মিনিমাম ধারণ ক্ষমতা হওয়া দরকার ৩০ লাখ টন।

প্রশ্ন: সগরিব প্রকল্প শক্তিশালী করা যেতে পারে?
শাইখ সিরাজ: সগরিব প্রকল্পকে শক্তিশালী করছেন না কেন সরকার? এই বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করবো। সগরিব প্রকল্প তো অনেক ভাল বিষয়- সরকারী গুদাম সংলগ্ন ব্যাংক। একজন কৃষক তার উৎপাদিত ফসল তাকে তাৎক্ষণিক বিক্রি করতে হবে না মহাজনের পয়সা দেওয়ার জন্যে। সে এই গুদামে রাখবে। গুদাম এই রক্ষিত ফসলের জন্যে তাকে পাশের ব্যাংক থেকে ঋণ দেবে- সে পরের ক্রপে চলে যাবে। এটার যখন বেটার প্রাইস পাবে তখন সে এটি বিক্রি করবে। সারা বাংলাদেশে এক সময় ৩০০/৩৫০ শহরে ছিল। আমার জানা মতে, এটি ভাল মাধ্যম। এই সমস্যা সমাধান করার জন্যে এবং এখন বোধ হয় ৮০/৮২টি শহরে আছে। তাও খুব দৈন্য দশা। এটিও সফল হতে পারেনি ওই মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে।

প্রশ্ন: কৃষক কি ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে?
শাইখ সিরাজ: আস্তে আস্তে কৃষক কিন্তু ধান থেকে শিফট করে যাচ্ছে- যাদের একটু সক্ষমতা আছে। সেই সক্ষমতা তার আর্থিক এবং মানসিক। সে কিন্তু ধান থেকে ফল ফলাদি অথবা ফুলে চলে যাচ্ছে। সব কৃষক যদি আস্তে আস্তে এইভাবে ধান চাষে বিমুখ হয় তাহলে তো বিপর্যয় নেমে আসবে। মূল খাদ্যের জায়গায় ঘাটতি হবে। অ্যাড্রেস করাটা আমার মনে হয় দরকার। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের কারণে। গার্মেন্টস এ নানান সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে সরকার। ব্যাংক লোন, ইনসেন্টিভ- এইটা ওইটা নানা সুবিধা পাচ্ছেন গার্মেন্টস এ বিনিয়োগকারীরা। একজন কৃষক কোন দিক থেকে কম বিনিয়োগকারী? গার্মেন্টস এ হয়তো কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন আর একজন কৃষক ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও সংখ্যার দিক দিয়ে ১ কোটি কৃষকের বিনিয়োগ কোন অংশেই কম নয়? কিন্তু কৃষক অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে।

প্রশ্ন: বোরো ধান চাষে অনেক পানির প্রয়োজন। বেরো চাষের ব্যাপারে আপনার বিশ্লেষণ কী?
শাইখ সিরাজ: বোরো ধান আমার দৃষ্টিতে যদিও এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হারভেষ্ট-প্রায় আড়াই কোটি টনের উপরে।বেরো চাষকে আর উৎসাহিত করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। পানির লেয়ার এতো নীচে নেমে যাচ্ছে। এটি আরও একটি বড় ডিজাস্টার হিসেবে দেখা দিচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে তো বোরো চাষের কথা চিন্তাই করা উচিত নয়।

প্রশ্ন: একটি ছোট ইস্যু- প্রতি বছর কৃষি বাজেটের আলোচনায় আমরা শুনি- বিলের যে বিষয়টা। কৃষিকে শিল্প হিসেবে যে বিল নেওয়া হয় বিশেষ করে মৎস্য খামারগুলো- এটা অ্যাড্রেস করা যায়?
শাইখ সিরাজ: বিদ্যুৎ বিলের জায়গা- এটা পোল্ট্রি ফিসারীতে দীর্ঘদিনের সমস্যা। বলা হচ্ছে- কৃষিতে যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় সেটা কৃষির জন্যে একটা ছাড়। খুবই অল্প মূল্যে বিদ্যুত দেওয়া হয়। বলা হয় পোল্ট্রি ফিসারী কৃষি খাত কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে নেওয়া হয় কমার্শিয়াল চার্জ। এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা। অর্থমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি দেখবেন। কিন্তু এটির সুরাহা আসলে এখনো হয়নি। এই জন্যে পোল্ট্রি এবং ফিসারীজ খামারিরা খুবই বিপদগ্রস্ত। একদিকে ফিডের কস্ট অনেক বেশি অন্যদিকে কমার্শিয়াল বিদ্যুৎ বিল বড় সমস্যা তাদের।

প্রশ্ন: ক্রপ ইনস্যুরেন্স চালুর ব্যাপারে কি বলবেন?
শাইখ সিরাজ: এবার পাইলটিং করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ক্রপ ইনস্যুরেন্স। এটা সত্যি যে আমাদের ছোট ছোট হোল্ডিংস এ ধানী জমিতে ক্রপ ইনস্যুরেন্স করা কতোটা সম্ভব হবে জানি না। কিন্তু কৃষিতে কমার্শিয়াল একটা অরচার্ড হচ্ছে। আমি বলতে চাচ্ছি- ফলের বাগান হচ্ছে। কমার্শিয়ালি ফ্লাওয়ার চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিক পিসিকালচার হচ্ছে। এই সব খুব সহজভাবে ইনস্যুরেন্স কাভারেজের মধ্যে আসতে পারে।

প্রশ্ন: কৃষককে প্রযুক্তি সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে?
শাইখ সিরাজ: আমার কাছে বারবার যেটা মনে হয়- কৃষি শতভাগ বাণিজ্যিক অ্যাঙ্গেল থেকে এগিয়ে যাচ্ছে ব্যাপকভাবে। কারণ হাই ভ্যালু ক্রপ হচ্ছে। যারা ধানের উপরে আছে তারাও হয়তো শিফট হয়ে যাবে। এই কারণে কৃষিকে অবহেলা না করে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। মেকানাইজেশন আসা মানে এর সাথে শিক্ষাদীক্ষার ব্যাপার আছে। নেক্সট জেনারেশনর কৃষিতে আসা শুরু করেছে। যারা বুঝতে পারছে তারা কিন্তু লেখাপড়া শিখে কৃষির সাথে যুক্ত হচ্ছে। কিছুটা মাইন্ডসেট চেঞ্জ হচ্ছে। কৃষির সাথে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তেই থাকবে। কৃষির সাথে আইওটি এবং কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়তেই থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে কৃষককে নতুন করে প্রশিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী ৫ বছরে সত্যি সত্যি কৃষিতে নতুন রেভ্যুলেশন আসবে গ্লোবালি। তা থেকে আমরাও বিচ্ছিন্ন কিছু না। আমাদেরও এই পরিবর্তনের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। কৃষককে প্রশিক্ষণের সাথে যুক্ত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি, আধুনিক কলাকৌশলের সাথে কৃষককে যুক্ত করতে হবে। ৫০ জনের কৃষককে ৭ দিনের জন্যে লার্নিং সেন্টারে এনে মডার্ন এগ্রিকালচালচার নিয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। আবার ৫০ জন আসবে। এইভাবে চলতে থাকবে। এইভাবে সময়ের সাথে কৃষককে আধুনিক চাষাবাদ, কলা কৌশল, সীড ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তৈরি করতে হবে।

প্রশ্ন: এগ্রিকালচাল এক্সটেনশন দিয়ে কি এটা সম্ভব না?
শাইখ সিরাজ: না। এক্সটেনশন এই কাজ করে না। এক্সটেনশন করে এই কাজটা- একটা ফসলের মাঠ তৈরি করতে ট্রেনিং দেয়। কিন্তু এইগুলো যদি হাতে কলমে এখনো কৃষককে না দেওয়া হয় তাহলে তো সমস্যা? এখন খুব বার্নিং সময় যাচ্ছে। অন্যদিকে এগ্রিকালচারের ডিজাস্টারের সময়। খুব দ্রুত ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে। আগে একটা রিসার্চের ফাইন্ড আউট মাঠ পর্যায়ে যেতে ১০ বছর লাগতো। এখন ১০ বছরে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। দুই বছরই তা টিকছে না। এখন সর্ট ডিউরেশন ভ্যারাইটির কথা ভাবা হচ্ছে।

প্রশ্ন: কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আপনার সুপারিশ কী?
শাইখ সিরাজ: এগ্রো প্রসেসিংয়ে যাওয়া খুব জরুরী এবং ব্যবসায়ীদেরকে এগ্রিকালচার প্রসেসিং বা এগ্রিকালচারের যে লাভ আছে সেই ব্যাপারে আগ্রহী করতে হবে। কারণ আমাদের হাতের কাছে একটা দুইটা বড় উদাহরণ আছে- প্রাণ এবং এসিআই। ব্যবসায়ীরা এগ্রিকালচার ইনভেস্টমেন্টে আসবে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। কারণ এখানে অর্থ বিনিয়োগ করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। এগ্রিকালচার কমার্শিয়াল হয়ে যাচ্ছে। এই দেশে প্রচুর গ্রিন হাউজ হবে। বিদেশীরা ইনভেষ্ট করবে। এই জায়গায় দরিদ্র কৃষকের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। ছোট কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। পরের দশ বছর কৃষির গতি প্রকৃতি কেমন হবে- তা এখনই ভাবনার ভেতরে আনতে হবে। বছর বছর থোক বরাদ্দ দিলেই হবে না। আর এগ্রিকালচারের ব্যাপারে কৃষককে প্রশিক্ষিত করা খুব জরুরি।