চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে সাজা: হাইকোর্টের আদেশ সোমবার

বিজ্ঞাপন

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাজা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটের বিষয়ে আদেশ সোমবার।

আরিফুলের সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন-অর-রশীদের করা জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের দিন ধার্য করেন।

pap-punno

রোববার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও আইনজীবী ইসরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে আজ শুনানির শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে কয়েকটি বিষয় আগামীকাল জানাতে বলেছেন। সেই বিষয়গুলো হচ্ছে:

১) অভিযান কারা পরিচালনা করেছে মোবাইল কোর্ট নাকি টাস্কফোর্স?
২) অভিযান পরিচালনার কারণ?
৩) রাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা?

Bkash May Banner

এছাড়া আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজার আদেশটি চেয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার সকালে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে জামিন দিয়েছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সাংবাদিক আরিফুলের সাথে ঘটা ঘটনার বিষয়ে তার স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু বিবিসিকে বলেন: ‘শুক্রবার গভীর রাতে অনেক লোকজন এসে আমাদের বাসার দরজা খুলে দিতে বলে। একপর্যায়ে ওনারা ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সাত আটজন মিলে আমার স্বামীকে মারতে শুরু করে। তাদের হাতে রাইফেল, পিস্তল সবই ছিল। তখন তারা বারবার বলছিল, কয়দিন ধরে খুব জ্বালাচ্ছিস। গুলি করে দেবো। বলে আরো মারে। ওর গায়ে কোন কাপড় ছিল না। আশেপাশের বাড়ির কাউকে সামনে এগোতে দেয়নি। সারা রাস্তা মারতে মারতে নিয়ে গেছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তাও বলেনি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে জানা গেল, আমার স্বামীকে নাকি মাদকের মামলায় এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

তবে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এ বিষয়ে বিবিসিকে বলছেন: ‘সেটা তো একবছর আগের কথা। আর সেখানে সে স্যরি বলেছে বলে আমরা তো আর কিছুই বলি নাই। ওইটা যদি কোন বিষয় হতো, তাহলে তো তখনই আমরা কোন অ্যাকশনে যেতাম। এখন ওইটার সঙ্গে এইটা মিলাচ্ছে তারা।’

সাংবাদিক আরিফুলের সহকর্মীরা গণমাধ্যমকে বলছেন: ‘কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আরিফুল বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে একটি ছিল কাবিখার টাকায় একটি পুকুর সংস্কার করে জেলা প্রশাসক কতৃক নিজের নামেই নামকরণ করা। সে কারণেই হয়ত প্রতিশোধমূলকভাবে গভীর রাতে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আরিফুলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং কোন রকম তল্লাশি না চালিয়েই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেয়ার পর আধা বোতল মদ আর দেড়শ গ্রাম গাজা উদ্ধারের গল্প সাজিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আরিফুলকে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।’

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View
Bkash May offer