চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কুমারী’র পরিবর্তে ‘অবিবাহিতা’ শব্দটি যুক্ত করার নির্দেশ

মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ফরমের (নিকাহনামার) কলাম পাঁচ এ থাকা কনের বেলায় ‘কুমারী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘অবিবাহিতা’ শব্দটি যোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফরমের ৪ নং কলামে ‘ক’ দফা যুক্ত করে ছেলেদের বেলায় (বর্তমানে নেই) ‘বিবাহিত’, ‘বিপত্নীক’ ও ‘তালাকপ্রাপ্ত’ কিনা সে অপশন সংযোজন করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রোববার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাবিননামার কলাম ৫-এ থাকা কনের ব্যাপারে ‘কুমারী’, ‘বিধবা’ বা ‘তালাকপ্রাপ্ত’ কিনা উল্লেখ করতে হয়। তাই এক্ষেত্রে আমাদের আপত্তিটা ছিল ‘কুমারী’ শব্দটা নিয়ে। তাই এই শব্দটি চালেঞ্জ করে এই রিটটি করা হয়। আজ কোর্ট রায় দিয়ে বলেছেন, ‘কুমারী’ শব্দটা বাদ দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে আদালত বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফর্মে একটি কলাম যোগ করতে বলেছেন, ‘যেখানে লিখতে হবে বর ‘বিবাহিত’, ‘তালাকপ্রাপ্ত’ কিংবা ‘বিপত্মীক’ কিনা।’

এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘বিয়ের এই ফরমটা পাকিস্তান আমলে হয়েছিল। বাংলাদেশ হওয়ার পর ফরমে শুধুমাত্র পাকিস্তানের জায়গায় বাংলাদেশ বসানো হয়েছে। বিয়ের ফরমে মেয়ে কুমারী থাকল কি থাকল না সেটা থাকা খুবই অসম্মানজনক।’

এর আগে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়টি নিয়ে একটি রিট আবেদন করে। সে রিট আবেদনে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ফরমে (নিকাহনামায়) শুধু কনের বৈবাহিক অবস্থা ও তথ্য সন্নিবেশিত করার জন্য অনুচ্ছেদ রয়েছে। তবে বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো কলাম নেই। সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান পরিপন্থী।

এরপর রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রেজিস্ট্রেশন ফরমের (নিকাহনামা) পাঁচ নম্বর কলাম কেন বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রুলে ‘কুমারী’ শব্দটি বিলোপ করে ফরমটি সংশোধন করা এবং বর সম্পর্কিত কোনো ক্রমিক ফরমে কেন উল্লেখ করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

অবশেষে হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রোববার রায় দিলেন হাইকোর্ট।

Bellow Post-Green View