চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিশোরবেলাতেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন বঙ্গবন্ধু

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮ তম জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের এই অবিসংবাদিত নেতা।

১০ জানুয়ারী, ১৯৭২। এক প্রিয় মানুষের অপেক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাস পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পা রাখলেন স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে। পুরো ঢাকা শহর জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত।

কিশোর বয়স থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই মানুষটির কঠোর অবস্থান সবার নজর কাড়ে। ৮ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রথমবারের মতো কারাভোগ করেছিলেন তিনি। ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ পরে যা হয় আওয়ামী লীগ। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পর ১৯৬১ সালে গোপনে গঠন করেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ। ১৯৬৩ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ৬৬’র ছয় দফা আর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পথ ধরে ৬৯‘এর গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানে কারাগার থেকে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। এই মহান নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধীতে ভূষিত করে বাঙ্গালী। ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন থেকে নেতৃত্ব দেন স্বাধীনতার আন্দোলনে।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ নয় মাসের মরণপণ যুদ্ধে পাকিস্তানের শৃংখলমুক্ত হয় বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এসে জাতির জনক ঘোষণা দেন সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।

বিজ্ঞাপন

বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঠিক তখন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কালো রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে কিছু উচ্ছৃংখল সেনা সদস্যের গুলিতে থেমে যায় ইতিহাস, স্বপরিবারে হত্যা করা হয় বাঙালির প্রাণের নেতাকে। ঘাতকদের নিষ্ঠুরতা থেকে সেদিন রক্ষা পায়নি ৯ বছরের অবুঝ শিশু শেখ রাসেলও।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, কিন্তু এখনও ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়নি বিদেশে পালিয়ে থাকা কয়েক খুনির।

শিশুদের খুব ভালবাসতেন বঙ্গবন্ধু। প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি তাই পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে ঘিরে সপ্তাহব্যাপী বইমেলার আয়োজন করেছে শিশু একাডেমী।

বিজ্ঞাপন