চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিম জং উন’র পর নর্থ কোরিয়ার নেতা কে?

হংকংয়ের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নর্থ কোরিয়ার একনায়ক কিম জং-উনের মৃত্যু খবর প্রকাশের পর পেরিয়ে গেছে তিন দিন। এখন পর্যন্ত উনের সুস্থতা নিয়ে মুখ খুলেনি দেশটি। এমনকি বাকি বিশ্বও রয়েছে অন্ধকারে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স নর্থ কোরিয়ায় চীনা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দল পাঠানোর খবর প্রকাশের পর এতটুকু ধারণা করা যাচ্ছে যে, উন মারা না গেলেও তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। যদিও চীন রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের চিকিৎসক দল পাঠানোর সত্যতা স্বীকার করেনি।

বিজ্ঞাপন

উন সম্পর্কে জল্পনা কল্পনার শুরুটা ১৫ এপ্রিল৷ নর্থ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা উনের দাদা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার পর থেকে। এরপরই সেখানকার একটি অনলাইন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়: হৃদরোগ জনিত সমস্যায় ভুগছেন উন। তার একটি অস্ত্রপচারও হয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশটির পিংগাও প্রদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷

আদতে উনের বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ এমন পরিস্থিতি উনের যদি মত্যু হয় তাহলে নর্থ কোরিয়ার পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষনে উঠে এসেছে উনের পর তার পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী তার বোন ইও জং৷ ২০০০ সালে দক্ষিণ কোরিয়া অলিম্পিকে সর্বপ্রথম তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়৷ এর আগে তিনি সুইজারল্যান্ডে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন৷

বিজ্ঞাপন

ইও জংকে ভাবা হয় নর্থ কোরিয়ার ইভানকা ট্রাম্প। ধারণা করা হয়ে থাকে উনে’র মন্ত্রী সভায় তার ভালো প্রভাব রয়েছে।

কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পথে তার সব থেকে বড় বাধা তিনি একজন নারী। পুরুষতান্ত্রিক নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত তাকে না দেখার সম্ভবনাকেই বড় করে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা৷

ইও জং

এর বাইরে উনের একজন সৎ ভাই ছিলেন। উনের ক্ষমতা গ্রহণের পর চীনে সেই ভাইয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। বলা হয়ে থাকা ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতেই উন তার ওপর বিষ প্রয়োগ করেছিলেন৷ তার একটি ছেলেও রয়েছে৷ তাকেও একাধিকবার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে৷ তবে সে এখনও বেঁচে আছে বলে ধারণা করা হয়৷ কিন্তু তার অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।

এর বাইরে উনের তিন সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যার মধ্যে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে, বড় ছেলের বয়স ১০ বছর। কঠোর গোপনীয়তা মেনে চলায় তাদের পরিবারের বিস্তারিত জানা যায়নি৷

এ পরিস্থিতিতে ইও জং-ই ক্ষমতার সবচেয়ে বড় দাবিদার। শেষ পর্যন্ত যদি তা না হয় তাহলে, একটি সম্মিলিত রাষ্ট্র পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে সেখানে অস্থায়ী রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে ইও জং’ক। পরবর্তীকে উন’র ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।