চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিছু প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড বিষয়ে আইএসপিআরের সতর্কতা

বিদেশ হতে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য সম্বলিত গল্প এবং বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত মান্যবর ব্যক্তিদের কথোপকথনকে সংগ্রহ করে তা কাট-পেষ্ট ও এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাসদস্য ও দেশের সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে মর্মে সতর্কতা জানিয়েছে আইএসপিআর। এরফলে দেশের ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের এসব কর্মকান্ড তাদেরকে অবাঞ্চিত করাটা যে যথার্থ ছিল তাই প্রমাণ করে। তাদের এই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘৃণ্য অপকর্মে প্রতিটি সেনাসদস্য অত্যন্ত মর্মাহত। কাল্পনিক, বাস্তবতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত এসব গল্প বা বক্তব্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এবং দেশের জনগণ বিশ্বাস করেনা বরং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও পেশাদার বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে তৈরী ৪৯ বছরের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই সেনাবাহিনী বর্তমানে পেশাগতভাবে দক্ষ ও পরিপক্ক, যা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সর্বশেষ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে হাসিমুখে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাসদস্যরা উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে পেশাদারিত্বের সাথে দেশে এবং দেশের গন্ডি পেরিয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথেই কাজ করে যাচ্ছে।

দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও তার উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ গভীরভাবে ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছে। দেশে বিভিন্ন দূর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অত্যন্ত সুসংহত করে চলেছে। চলমান করোনা মহামারীকে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করার পর, তার নির্দেশে সেনাবাহিনী করোনা যুদ্ধে জনগণের পাশে থেকে অভূতপূর্ব সেবা প্রদান করে। ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর অবসর গ্রহণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অবসরপ্রাপ্ত প্রতিটি সেনাসদস্য অবসর জীবনে নিজেকে একজন প্রাক্তন সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন এবং সৎ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। তবে অবসর জীবনে যদি কোন প্রাক্তন সেনাসদস্য শৃঙ্খলা বিবর্জিত জীবনযাপন করে যা সামরিক ও বেসামরিক পরিমন্ডলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করে, তখন তাকে সংশোধনের জন্য দেশের সকল সেনানিবাস সমূহে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।