চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিংবদন্তীর শূন্য হাতে ফেরা, তবে…

মার্টিন স্করসিস। একটি কিংবদন্তী উচ্চারণ! পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। নামের সঙ্গে লেপ্টে আছে চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাস। বিশ্বের সবচেয়ে দাপুটে চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে এখনো তার উপস্থিতি আলাদা দ্যোতনা সৃষ্টি করে! অস্কারের মঞ্চটিও নয় ব্যতিক্রম! অথচ এই নির্মাতাকে কিনা এবারের অস্কারের আসর থেকে ফিরতে হলো একেবারে শূন্য হাতে!

অস্কার ২০২০-এর জন্য যে কয়টি চলচ্চিত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো, তারমধ্যে একটি ‘দ্য আইরিশম্যান’। যে ছবিটি নির্মাণ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছেন জীবিত নির্মাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার অস্কারে মনোনীত হলিউড নির্মাতা মার্টিন স্করসিস।

বিজ্ঞাপন

অস্কারের আগে বেশকিছু চলচ্চিত্র উৎসবেও দাপট দেখিয়েছে তাঁর নতুন ছবিটি! চলতি অস্কারেও দশটি বিভাগে (দ্বিতীয় সর্বোচ্চ) মনোনীত হয়েছিলো। আশাবাদী ছিলেন স্বয়ং নির্মাতাও। শুধু তাই নয়, নিজের নির্মিত এই ছবিটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সৃষ্টি বলেও মন্তব্য করেছিলেন স্করসিস। তাই আশার পারদটা ছিলো বেশ উঁচুতে! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একটি বিভাগেও পুরস্কার পায়নি ‘দ্য আইরিশম্যান’।

পুরস্কার শূন্য ফিরলেও অস্কারের মঞ্চ থেকে বিরল ‘সম্মান’ বয়ে নিয়ে গেছেন বুড়ো স্করসিস। কীভাবে?

এবারের অস্কার মঞ্চ ছিলো প্যারাসাইটময়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারগুলো নিয়ে গেছেন কোরিয়ান নির্মাতা বং জুন হো। অতিথি সারিতে বসে শুধু তা দেখে গেছেন মার্টিন স্করসিস, কোয়ান্টিন টারান্টিনো কিংবা টোড ফিলিপসের মতো বিখ্যাত নির্মাতারা! অস্কারের মঞ্চে চমকে দেয়া এমন যাদু দেখানোর পাশাপাশি অন্যরকম এক বিনয়ের দৃষ্টান্তমূলক গল্প রেখে গেলেন এই নির্মাতা!

একে একে মৌলিক চিত্রনাট্য ও আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার নেয়ার পর তৃতীয়বারের মতো যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন বংয়ের চোখে চোখে জল। কারণ ‘সেরা নির্মাতা’র পুরস্কারটিও যে এবার তিনি পাবেন, তা নাকি কল্পনাও করেননি!

কড়তালির মাধ্যমে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয় বংকে। তখনও ছল ছল চোখ তার। অনুভূতি শেয়ার করতে তার দিকে এগিয়ে দেয়া হয় মাইক্রোফোন। এরআগে দুইবার মঞ্চে উঠে লোক হাসিয়েছেন তিনি, তবে এবার ঘটলো ভিন্ন ঘটনা! নিজের মাতৃভাষায় বলে উঠলেন, ‘তরুণ বয়সে আমি যখন সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি, তখন একটি কথা আমার হৃদয়ের গভীরে খোদাই করা ছিলো। আর সেটি হলো ‘একান্ত ব্যক্তিগত জিনিষই সবচেয়ে সৃষ্টিশীল’। আর এ কথাটি ছিলো মার্টিন স্করসিস-এর। তিনি আমার কাছে অনুপ্রেরণার নাম!’

মুহূর্তে গমগম করে উঠে ডলবি থিয়েটার। কড়তালিতে ফেটে পড়ে হল রুম। এতেই ক্ষান্ত হননি চমক সৃষ্টি করা ‘প্যারাসাইট’-এর নির্মাতা। বলে চলেন, ‘স্কুলে থাকা অবস্থাতেই আমি মার্টিন স্করসিস-এর চলচ্চিত্র দেখতে, জানতে শুরু করি।’

মার্টিন স্করসিসকে লক্ষ্য করে বং জুন হো’র এমন কথায় উপস্থিত দর্শক এবার দাঁড়িয়ে যান। সম্মান জানান স্করসিসকে। বেশ কিছুটা সময় এমন অভ্যর্থনা চলে। এসময় স্করসিস নিজেও হাত নেড়ে এমন বিরল অভ্যর্থনার জবাব দেন!