চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ

ব্যক্তি জীবনে মানসিক অস্থিরতাতে কাটছে প্রায় সকল মানুষের দিন। সীমিত পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই জনজীবন। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল দেখে মনে হয়, করোনা ভাইরাস বলে দেশে কিছু নেই। কিছু মানুষ চাইলেও এ ঘন বসতির দেশে নিয়ম মানতে পারছে না। তার কারণ হলো অধিকাংশ মানুষের অজ্ঞতা, অবহেলা ও আর্থিক অক্ষমতা। অন্যদিকে মৃত্যু নিয়ে হোলিখেলা চলছে নানাভাবে। টেষ্ট, চিকিৎসা, ওষুধ নিয়ে দুর্নীতির অন্ত নেই। সকল ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা অথচ নিজেদেরকে ‘ভালো আছি’ জাহির করার চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র। যার ফলে মানুষ করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতন থাকার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারছে না।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে সর্বনাশা খেলাতে মেতে উঠেছে ক্ষমতার সান্নিধ্যে থাকা নব্য ক্ষমতাবানরা। তাদের কাছে কোভিড-১৯ হলো ব্যবসার ভরা মৌসুম। এ মহামারীতে তারা ধনী হবার নতুন পাঁয়তারা করে যাচ্ছে মানুষকে জিম্মি করে। আর তাদের অন্তরালের শক্তিটা বরাবরে মত রহস্যময়। এ ধারাবাহিকতায় দেশে অন্যায়ের বিচার নেই বলেই মহামারীর কালে রিজেন্ট হাসপাতাল ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে কোটি টাকার দুর্নীতি করতে পারে। আমলা, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমের খুব কাছের মানুষ রিজেন্ট হাসপাতালের কর্নধার। তার টক শো’য়ের আলাপন আর বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে এখন। নিজের সম্পদের পাহাড় গড়তে মানুষকে নিঃস্ব করছে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার নামে। তবে জেকেজি হেলথ কেয়ার, রিজেন্ট হাসপাতালের পাশাপাশি অন্য হাসপাতালের আসল চিত্র ভুক্তভোগীরা জানে। বিনা পয়সায় টেস্ট বা চিকিৎসা হয় না কোথাও । ৩৫০০ টাকার টেস্ট করাতে কমপক্ষে ৫০০০ হাজার টাকা খরচ হয়। এত টাকা নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দেয়ার মত অমানবিক আচরণ আসলে পশুত্বকে হার মানায়।

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ বিশ্ব ইতিহাসে আরেক এক মহামারী হিসাবে স্মরণীয় হবে আগামী দিনে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ মহামারী আরও বেশি স্মরণীয় হবে রক্তচোষা দুর্নীতিবাজদের ঘৃন্যত এসব অপকর্মের জন্য। জীবন বাঁচাতে মানুষের আকুলতাকে বোঝার বোধ শক্তি নিয়ে বলে এরা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে জনগনের কাছে। যা দেখে বলতেই হয়, ‘ কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালে করোনাভাইরাস দেশের মানুষের জীবন যাত্রাকে পাল্টে দিয়েছে। আয় ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। বিগত ৪ মাসের অর্থনৈতিক স্থবিরতাতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী বেসরকারি চাকরিজীবি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। দেশের প্রতিটি সেক্টরে চাকরি হারানো পরিবারগুলো নতুন করে কবে আশার আলো দেখবে তা জানে না কেউ। কারণ এ মুহুর্তে চাকরি হলো সোনার হরিণ। আর ব্যবসা বাণিজ্যতে কোভিড-১৯ কালীন লোকসান পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। মানুষের কাছে কোনভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই এখন মুখ্য বিষয়। অন্য ধরনের বিলাসিতা বা কেনাকাটা অনেকটাই অচিন্তনীয়।

তথৈবচ এ জীবনকে সামাল দিতে হলে নিজের স্বার্থপর চিন্তাকে পরিত্যাগ করতে হবে প্রত্যেকে। যা করা অসম্ভব হচ্ছে অসাধু ব্যক্তিদের পক্ষে। কারণ কিছু মানুষ রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিতে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা। তাদের চিন্তা চেতনাতে দুর্নীতির বাইরে কিছু নেই। গিরগিটির মত রং বদল করে এরা কালেকালে মানুষের সর্বনাশ করে নানা বেশে। আর সে কারনে জেকেজি হেলথ কেয়ার, রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারের কঠোরতারকে উপেক্ষা করে মানুষের সংগে প্রতারণার করার সাহস রাখে।

কোভিড-১৯ যে বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে তা জীবনের নির্মমতা। কিন্তু বিবেকহীন মানুষ পারছে না নিজেদের সংশোধন করতে। প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু দেখেও তারা সর্বনাশের খেলাতে মত্ত। আসলে অর্থের নেশাতে ডুবে গেলে মানুষের ন্যায় নীতি লোপ পায়। ‘চাই আরও চাই’- এ মন্ত্র জপে বলে আয়নাতে দেখতে পায়না নিজের কুৎসিত লোভাতুর চেহারা। ভুলে যায় তাদের ক্ষমতা আর প্রাচুর্যতায় আছে হাজারো মানুষের চোখের জল।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)