চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কারোনাভাইরাস: মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইর হাজিরাও হজে যাচ্ছে না

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের পর এবার রাজকীয় ব্রুনাই দারুস সালাম এবং মালয়েশিয়ার হাজিরাও হজে অংশগ্রহণ করছে না বলে জানা গেছে।

জেদ্দায় অবস্থিত মালয়েশিয়ান হজ মিশনের প্রধান কাউন্সিলর হজ মোহাম্মদ সায়েমী তার দেশের হাজীরা আসন্ন ২০২০ সালের হজে অংশগ্রহণ করছেন না বলে মালয়েশিয়ান সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া রাজকীয় ব্রুনাই দারুস সালাম সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক বোর্নিও বুলেটিন।

বিজ্ঞাপন

ব্রুনাই বার্তা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বোর্নিও বুলেটিন এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীরা আসন্ন হজে অংশগ্রহণ করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও গতকাল পর্যন্ত সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত না জানার কারণে ব্রনাই সরকার আসন্ন হজে প্রস্তুতিমূলক যে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তা স্থগিত করেছেন।

এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হাজী অংশগ্রহণকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ান সরকার ও সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে আসন্ন হজে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি হজ বিষয়ে সৌদি সরকার তাদের সিদ্ধান্তের কথা না জানায় তাহলে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ নাইজেরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ তাদের দেশের হাজীদের হজে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

হজের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হজ বিষয়ে সৌদি সরকারের অবস্থানের কথা পরিষ্কার করবেন।

হজ পালন বিষয়ে সৌদি সরকারের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে তবে গত কয়েকদিন যাবৎ হঠাৎ করে করোনাভাইরাসে সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। বহির্বিশ্ব থেকে ১০% নাকি ২০ পার্সেন্ট অথবা স্থানীয়ভাবে কত সংখ্যক হজ যাত্রী অংশগ্রহণ করবেন তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

হজ ব্যবস্থাপনায় কোভিড-১৯ এর প্রভাব কতটুকু হতে পারে এবং তা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এই নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা।

আরেকটি সূত্র বলছে বহির্বিশ্ব থেকে যদি ২০ পার্সেন্ট হাজী যদি এবারের হজে অংশগ্রহণ করেন তাহলে প্রায় চার থেকে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখের মতো হাজি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসবেন।এই সমস্ত হাজীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনা, মক্কা-মদিনা, মিনা-মুজদালিফা এবং আরাফাত ময়দানে আবাসন ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শতভাগ সফল হবে এমন ব্যবস্থার দিকেই এগুচ্ছে সৌদি সরকার। তবে কোন প্রকার ঝুঁকি অথবা কোভিড-১৯ এর প্রভাবে হাজীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয় এই বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

তবে যে পরিমাণ হজ যাত্রী এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অথবা স্থানীয়ভাবে হজে অংশগ্রহণ করবেন তাদের হজ পালনের ব্যয় আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর হজ মাকসুদুর রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন হজ বিষয়ে সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সাথে মিশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে । সুষ্ঠু হজ পালনে বাংলাদেশি হাজিদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সরকার এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তিনি জানান।