চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কানের ভেতর মাকড়শার বাসা!

মাথার ভেতর অস্বস্তি নিয়ে এক ব্যক্তি গেলেন চিকিৎসকের কাছে। বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব, আমার কানের একেবারে ভেতরে সারাক্ষণ কেমন জানি চুলকায়, শিরশির করে। মনে হয় কী যেন হাঁটাহাঁটি করে।’

বিজ্ঞাপন

নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ভেতরে আলো ফেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অস্বাভাবিক কিছুই দেখতে পেলেন না। ভাবলেন, রোগীর মনের ভুল হয়তো। অথবা সামান্য কোনো ব্যাপার।

কিন্তু রোগীর তীব্র অস্বস্তির কারণে এন্ডোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করলেন কানের। সেখানেই দেখতে পেলেন, কানের গভীরে বাসা বেঁধেছে ছোট একটা মাকড়শা!

ঘটনাটি ঘটেছে চীনের জিয়াংসু প্রদেশে। সেখানকার ইয়াংজু বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ঝাং পান নিউজ১৮.কমকে বলেন, প্রথম তিনি যখন রোগীর কান পরীক্ষা করেছিলেন তখন কিছুই চোখে পড়েনি তার।

‘আমি খালিচোখে পরীক্ষা করে কিছুই দেখতে পাইনি। কিন্তু এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে আবিষ্কার করলাম, কানের অনেক ভেতরে ছোট একটি মাকড়শা বাসা বেঁধেছে।’

মাকড়শাটি জাল বুনে ওই ব্যক্তির কানের ছিদ্র আংশিকভাবে ঢেকে ফেলেছে। জাল বুনতে বুনতে সেটি এগোচ্ছে মাথার আরও ভেতরে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক চিমটার সাহায্যে বেশ কয়েকবার মাকড়শাটিকে বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পোকাটি বারবারই সরে যেতে থাকে। তখন বাধ্য হয়েই ভিন্ন পথ ধরলেন তিনি।

কানের ভেতর সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এক ফোঁটা স্যালাইন সলিউশন ঢেলে দিলেন। ছোট্ট মাকড়শাটি তখন সেই ‘মিনি সুনামি’ থেকে বাঁচতে ছুটে কান থেকে বেরিয়ে আসে। তখন সেটিকে ধরে ফেলা হয়।

কানের ভেতর দিয়ে পোকামাকড় ঢুকে যাওয়া, কানের গভীরে, এমনকি আরও ভেতরে বাসা করে ডিম পাড়া… এটি আসলে নতুন কিছু নয়। এমন ঘটনা আতঙ্কজনক হলেও অনেক সময়ই কারো না কারো সঙ্গে ঘটে থাকে। এরই সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো এই ঘটনাটি।

দেহের যে কোনো ফুটো দিয়ে পোকামাকড়ের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। ডা. পান বলেন, ওই ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে দেরি করলে তার কান এবং মাথার গুরুতর ক্ষতি হতে পারত।

দেহের যে কোনো অংশে এভাবে পোকা ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে বা আশংকা করলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Bellow Post-Green View