চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কানাডায় সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশিত নতুন চাকরি

কানাডার অর্থনীতিতে সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ ৭৮ হাজার চাকরি যুক্ত হয়েছে। কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম সিটিভি পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রায় সবগুলো চাকরিই ফুলটাইমের। কোভিড -১৯ এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৭ লাখ ২০ হাজার।  

মার্চ এবং এপ্রিল মাসে কানাডায় চাকরি হারানোর ব্যাপক রেকর্ডের পর মে মাস থেকে কিছুটা সম্ভবনা দেখা যায় চাকরি প্রত্যাশিতদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিতে প্রতিমাসে কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে তবে কাজের বাজার এখনো মিলিয়ন পজিশনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। 

তবুও সেপ্টেম্বর মাসে অর্থনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে হারিয়েছে এমন তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি চাকরির পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে তুলনা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ জব হারিয়েছে তার অর্ধেকের চেয়ে কিছুটা বেশি ফিরে পেয়েছে।

উল্লেখ্য নতুন চাকরির বেশীরভাগই ফুল টাইমের। শুধুমাত্র ৪৪হাজার পার্টটাইম চাকরি ছিল। অর্থনীতিবিদরা যা আশা করেছিলেন তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আশা পূর্ণ হয়েছে।

প্রিন্স এডওয়ার্ড দ্বীপ ছাড়া প্রায় প্রতিটি প্রদেশেই চাকরির নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে অন্টারিওতে ১ লাখ ৬৭ হাজার, কুইবেকে ৭৬ হাজার, ব্রিটিশ কলম্বিয়া ৫৪ হাজার এবং আলবার্টায় যোগ হয়েছে ৩৮ হাজার।

বিজ্ঞাপন

জুনে প্রায় দশ মিলিয়ন কানাডিয়ানদের চাকরি ছিল, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে দেশটি মহামারী দ্বারা বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যবসায়গুলি আবারও চালু হতে শুরু করে এবং দেশটি প্রচুর লোকসান পুনরুদ্ধার করতে থাকে।

সেপ্টেম্বরে বেকারত্বের হার ৯% নামিয়ে আনার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। প্রসঙ্গত ফেব্রুয়ারিতে কানাডার বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ । সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার আগে মে মাসে এটি ছিল ১৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নিত হয়েছিল যা রেকর্ডের সর্বোচ্চ হার। এরপর থেকে ৪ মাসের প্রতিটিতে এটি ক্রমাগত হারে কমেছে।

পরিসংখ্যান কানাডার শ্রমশক্তি অধিদপ্তরের জুন মাসে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে যে, জুন মাসে ৯ লাখ ৫৩ হাজার চাকরি যুক্ত হয়েছে, যেখানে ৪ লাখ ৮৮ হাজার পূর্ণকালীন এবং ৪ লাখ ৬৫ হাজার খণ্ডকালীন চাকরি। মে মাসে বেকারত্বের হার ১৩.৭ শতাংশ রেকর্ড- সংখ্যক আঘাতের পরে কমেছে ১২.৩ শতাংশে।

কানাডার অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এ অবস্থার আরো পরিবর্তন হবে। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকেই চাকরিতে যোগ দিচ্ছে। কানাডার অর্থনীতির চাকা সচল করতে নীতিনির্ধারকরা আনছে একের পর এক পরিকল্পনা। আর তা চলতে থাকবে নির্দিষ্ট কোন ভ্যাকসিন বের না হওয়া পর্যন্ত।

বছরের শুরুতে তেলের দাম কম ছিল, তার উপর মরার উপর খড়ার ঘায়ের মত করোনা মহামারী তেল, গ্যাস সেক্টর কে বড়ই লাজুক অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারীর করোনায় কানাডায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাগুলো। অনেক রেস্টুরেন্ট ইতিমধ্যেই খুলে গেছে।

কানাডায় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা থাকার কারণে অনেক ব্যাবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে। কানাডায় স্বাস্থ্যবিধি ও ঝুঁকির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম জোরদার করেছে।