চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের নতুন ধরণে কানাডায় এখনো কেউ আক্রান্ত হয়নি

সারাবিশ্বের মহামারীর করোনা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে দেখা দেয়া নতুন ধরণের(স্টেইন) করোনাভাইরাস কানাডায় এখনো সংক্রমণ ঘটেনি। 

কানাডার জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এই ভাইরাসে কেউ সংক্রমিত হয়েছে কী না তা চিহ্নিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাবলিক হপাবলিক হেলথ অন্টারিওর একজন মুখপাত্র ইমেইলে টরন্টো স্টারকে বলেছেন, সার্স কোভ-২ এর গতি প্রকৃতি অনুসন্ধান এবং পর্যালোচনার তাদের ‘জেনোমিক সার্ভিলেন্স প্রোগ্রাম’ আছে। এ পর্যন্ত তারা ৪ হাজার ৩শ’টির বেশি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেছেন। তার মধ্যে যুক্তরাজ্যে যে প্রকৃতির করোনা ভাইরাসের শনাক্তের কথা বলা হচ্ছে, তার একটিও এখানে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ওই মুখপাত্র বলেছেন, ভাইরাসের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণটি কেবলমাত্র আক্রান্ত বা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এমন ব্যক্তির ‘ভাইরাসের উপস্থিতি’ পরীক্ষার মধ্যেই সীমিত থাকে না। নতুন সংক্রমণের উৎস (অরিজিন) খুঁজে বের করতে ভাইরাসের নমুনার জেনেটিক ম্যাটেরিয়্যাল বিশ্লেষণ করা হয়।

যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে আতংক দেখা দেয়। নতুনদেশের সঙ্গে আলাপকালে কানাডার বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা নতুন ভাইরাসের সংক্রমণের খবরে নিজেদের আতংকের কথা প্রকাশ করেন।

কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেরেসা ট্যাম সোমবার এক টুইটবার্তায় বলেন, যুক্তরাজ্যে দেখা দেওয়া নতুন ধরনের ভাইরাসটি ইতিমধ্যে কানাডায় ঢুকেছে কী না তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাইরাসের জেনেটিক মিউটেশন নতুন কিছু নয়। কোভিড মহামারীর শুরু থেকে কয়েকবারই এই ধরনের মিউটেশিন হয়েছে। করোনার নতুন এই প্রকৃতিটি (স্ট্রেইন) সত্যিই অধিকতর সংক্রমাক কী না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো তথ্য দরকার বলে ড. থেরেসা ট্যাম তার টউটে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে অন্টারিওর মেডিকেল অফিসার ড. ডেভিড উইলয়াম সোমবার তার নিয়মিত ব্রিফিং এ বলেছেন, অন্টারিও প্রভিন্সের কোথাও নতুন ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো ঘটনা শণাক্ত হয়নি। তবে তারা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

প্রসঙ্গত, ’জিনোম কানাডা ‘র নেতৃত্বে পরিচালিত ’দ্যা কানাডিয়ান কোভিড-১৯ জিনোমিক নেট্ওয়ার্ক’ এই ভাইরাসের জেনেটিক রপান্তর এবং প্রকৃতি নিয়ে গবেষনায় নিয়োজিত রয়েছে।

অন্যদিকে কানাডায় করোনা মহামারীর দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না,বরং উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ক্রমবর্ধমানহারে করোনাভাইরাস বেড়েই চলেছে। সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি, সরকার কর্তৃক বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেয়া সত্বেও করোনা ভাইরাস কে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন প্রদেশের বাসিন্দারা আশঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৫০৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ হাজার ৪ শত ২৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৬১ জন।

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অনটারিও, বৃটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা, এবং কুইবেকে নাটকীয় ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপকহারে চাপ পড়ছে।