চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্ষেপ ভরা হার

২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘ই’তে শক্তিশালী কাতারের কাছে ২-০ গোলের আক্ষেপ ভরা এক হারে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। এই নিয়ে বাছাইপর্বের দুই ম্যাচেই হার দেখল জেমি ডের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন কাতারের খেলোয়াড়রা। একে অপরকে করলেন আলিঙ্গন। খেলা না দেখে থাকলে বিশ্বাস করা কঠিন, র‍্যাঙ্কিংয়ে ১২৫ ধাপ এগিয়ে থাকা এক দলকে কী নাচই না নাচিয়ে ছেড়েছে বাংলাদেশ!

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের আগেরদিন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের প্রত্যাশা ছিল বৃষ্টি। তার ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে! বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই মেঘলা ছিল ঢাকার আকাশ। পরে হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে ভারী হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ।

তুলনামূলক শুষ্ক ও টার্ফে খেলে অভ্যস্ত কাতারের খেলোয়াড়দের অসুবিধার কথা ভেবেই বৈরি আবহাওয়া কামনা করেছিলেন স্বাগতিক কোচ! খেলা শুরু হতে সেটাই সত্যি হল। ভেজা, ভারী মাঠে নিজেদের গতিময় খেলায় বিঘ্ন ঘটল ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারের।

ভেজা মাঠে প্রতিপক্ষের অস্বস্তি কাজে লাগিয়ে শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। সপ্তম মিনিটে সাদের ক্রস নাগালে পাননি অন্য সতীর্থরা। নবম মিনিটে রায়হানের থ্রোতে ইয়াসিন খান হেড করতে পারলে এগিয়ে যেতেও পারতো স্বাগতিকরা। ফিরতি বলে জামাল ভুঁইয়া শট নিয়েছিলেন, তবে তা লক্ষ্য খুঁজে পায়নি।

ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় কাতারের ডিফেন্ডারদের ভুলে এসেছিল দারুণ এক সুযোগ। স্বাগতিকরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

খানিকপরে আচমকাই ম্যাচে ফেরে কাতার। বাংলাদেশ রক্ষণে জটলার সুযোগে ডি-বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে পাওয়া পাসে বামপ্রান্ত দিয়ে জোরাল শটে গোল এনে ২৮ মিনিটে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন অতিথি ফরোয়ার্ড ইউসুফ আব্দুরিসাগ।

এক গোলে পেছানো বাংলাদেশের সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ ছিল ৪২ মিনিটে। কর্নার থেকে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার শট ডি-বক্সে পরা মাত্র পরপর তিন দফা লক্ষ্য বরাবর শট নেন স্বাগতিক ফুটবলাররা। প্রথম শট নেন বিপলু আহমেদ, যা কাতারের একজনের গায়ে লেগে ফেরার পর দ্বিতীয়বার শট নেন রহমত মিয়া। সেটি প্রতিহত হবার পর সাদউদ্দিন সাদের শটও খুঁজে পায়নি লক্ষ্য।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬৯ মিনিটে নাবীব নেওয়াজ জীবনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফরোয়ার্ড মাহাবুবুর রহমান সুফিল। মাঠে নেমেই গতি বাড়ান খেলায়। ৭৪ থেকে ৭৮, এই চার মিনিটে অন্তত তিনবার বল জালে জড়ানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বিপলু আহমেদের ক্রসে জামাল ভুঁইয়ার দারুণ এক শট হেড করে বাঁচান কাতারের বাসাম হুসাম। পরের মিনিটেই বদলি ফরোয়ার্ড মাহাবুবুর রহমান সুফিলের শট ফিস্ট করে ফেরান কাতার গোলরক্ষক।

পরে ৭৭ মিনিটে আবারও হতাশ হতে হয়েছে লাল-সবুজদের। ডি-বক্সের বামপ্রান্ত দিয়ে বিপলুর দিকে বল এগিয়ে দেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এরপর জাল বরাবর যে ভলি করেছিলেন বিপলু, সেটি লক্ষ্যে থাকলে হয়তো ম্যাচের চিত্রই থাকতো অন্যরকম। আক্ষেপ নিয়ে শেষ হতো না ম্যাচ।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের আরেকদফা হতাশায় ডোবান করিম বোডিয়াফ। ৯১ মিনিটে জটলার ভেতর থেকে আলতো পাসে গোল এনে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কাতারি মিডফিল্ডার।

Bellow Post-Green View