চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কাজ পছন্দ হলে পজিটিভ-নেগেটিভ চরিত্র কোনো বিষয় না’

ইমপ্রেসের ‘ইতি তোমারই ঢাকা’য় অভিনয় করছেন ইরেশ যাকের

ইরেশ যাকের। ছোট পর্দা দিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করলেও খুব কম সময়ে বড় পর্দাও বশে এনেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন চোরাবালি, জিরো ডিগ্রী, ছুঁয়ে দিলে মন ও স্বপ্নজাল-এর মতো প্রশংসিত আর মানসম্মত চলচ্চিত্রে। ছোট পর্দায় কিছুটা বোকাসোকা চরিত্রে তাকে পাওয়া গেলেও বড় পর্দায় তিনি পুরোপুরি ড্যাশিং! ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করেতো ‘শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি।

চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’-এও নেগিটিভ রোলে অভিনয় করে কুড়িয়েছেন সিনেবোদ্ধাদের প্রশংসা। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’-এবং অনম বিশ্বাস পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দেবী’। এছাড়াও সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘ইতি তোমারই ঢাকা’-এর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের অংশে। ১১ খণ্ডের এই অংশটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা তানিম নুর। অভিনেতার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা হলো চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে:

মুক্তির প্রতীক্ষায় আছে আপনার অভিনীত ‘দেবী’। অভিনেতা হিসেবে ছবিটির ভবিষ্যৎ কেমন দেখতে পারছেন?
ছবির ভবিষ্যৎ মূলত যিনি প্রযোজক এবং দর্শকদের উপর নির্ভর করে। আমার কাজ ছিলো ঠিকঠাক অভিনয়টা ডেলিভারি করা, আমি করে এসেছি। আর এমনিতে এই ছবিতে কাজ করতে ভালো লেগেছে। কারণ, ছবির পরিচালক অনম বিশ্বাস আমার খুব কাছের মানুষ। খুব প্রিয় মানুষ। এছাড়া খসরু ক্যামেরায় ছিলো, সেও আমার কাছের মানুষ। ফলে কাজ করার ক্ষেত্রে খুব ইজিলি হয়েছে সবকিছু। আমার চরিত্রটাও ছিলো দারুণ, আসলে সবকিছু মিলিয়েই আমি দেবী উপভোগ করেছি।

পজিটিভ বা নায়কোচিত চরিত্রে অভিনয় করলে সাধারণত মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকা সহজ। কিন্তু নেগিটিভ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করেও আপনি দর্শকের পছন্দের। আপনার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নজাল’-এও এমনটা হয়েছে…?
ব্যাসিকেলি ওইভাবে বলতে গেলে আমিতো নায়ক না। আমি অভিনেতা। অভিনয় আমার কাজ। চরিত্র পছন্দ হলে পজিটিভ বা নেগিটিভ রোল কোনো বিষয় না। আমি যে চরিত্রেই অভিনয় করি না কেনো, সেটাতো অভিনয়ের জায়গা। এখন সেটা যদি দর্শক পছন্দ করে সে বিষয়ে আমিতো তাদের কাছে অবশ্যই কৃতজ্ঞ।

তাহলে নিয়মিত বড় পর্দায় আপনাকে এখন দেখা যাবেতো?
এ বছরতো চারটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করলাম। ক’দিন আগে ফারুকী ভাইয়ের(মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) ‘শনিবার বিকেল’-এ অভিনয় করলাম। এ ছবিটি নিয়েও প্রতীক্ষায় আছি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি কী কাজ করলেন?
ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’য় কাজ করেছি সম্প্রতি। দু’দিন শুটিং হয়েছে। আরো একদিন হবে। তো সব মিলিয়ে ভালোই উপভোগ করছি কাজটা। ধরে ধরে কাজটি হচ্ছে, খুব সুন্দর হচ্ছে। এমন কাজ আরো হওয়া প্রয়োজন আমাদের।

অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘ইতি তোমারই ঢাকা’। এরকম ভাবনার কাজতো বাংলাদেশে প্রথম। কীভাবে দেখছেন?
চলচ্চিত্র বলেন, বা কন্টেন্ট যে নামেই ডাকি না কেনো এসব যে একই ধরনের হতে হবে এরকমতো কথা নেই। তাই না! তো ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ একই ধরনের কোনো কাজ না। একটু ভিন্ন। চলচ্চিত্র যে কোনো ধরনেরই হতে পারে। কাজটা যদি মানুষের কাছে উপভোগ্য হয়, এবং মান সম্মত হয় তাহলেই হলো। যে ফরম্যাটেই হোক না কেনো!

এশিয়াটিক ধ্বনিচিত্র থেকে ব্যবসসাফল ছবি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ প্রযোজনা করেছিলেন ২০১৫ সালে। এরপর আর সিনেমা প্রযোজনায় এলেন না। সিনেমা প্রডিউস করার পরিকল্পনা নেই আপনাদের?
এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে হতে পারে। আসলে একটা সিনেমা নামানোতো অনেক পরিশ্রমের কাজ। এখন এশিয়াটিকে আমরা যারা আছি তাদের প্রধান কাজতো সিনেমা নির্মাণ নয়। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ব্যবসায়িক ব্যস্ততা থাকে। সিনেমার পেছনে সময় বা শ্রম যেটা যায় সেটাতো অনেক। তখনি আমরা আরেকটা সিনেমার পেছনে এরকম সময় ও শ্রম দিবো যখন আমরা আরেকটা ভালো আইডিয়া বা গল্প পাবো। মানে ভালো আইডিয়া পেলে ভালো সিনেমা তৈরি করার সুযোগ পেলে অবশ্যই আমরা থাকবো। যেহেতু সিনেমা নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো উইং আমাদের নাই তাই একটা সিনেমা করতে হলে আমাদের সকলের কাজে নামতে হয়। তো এই যে সবাই সময় ও শ্রমটা দিবো যখন দেখবো আমাদের কাছে সিনেমার জন্য ভালো একটা গল্প আছে তখন। আমি আশাবাদী, এরকম গল্প আমাদের কাছে হয়তো আসবে।

সেই ক্ষেত্রে ভালো গল্পের আইডিয়া নিয়ে কোনো তরুণ এলেও কি এক্সিকিউট করবে এশিয়াটিক?
ভালো কোনো গল্প, আইডিয়া পেলে অবশ্যই আমরা যাচাই বাছাই করে দেখে কাজে আগ্রহী হবো। ভালো কাজ দেখলেতো সবাই এগিয়ে আসে। এখন শুধু সেই সুযোগের অপেক্ষা। দেখা যাক।

ধন্যবাদ আপনাকে…
ধন্যবাদ চ্যানেল আই অনলাইনকেও।

ছবি: ইরেশ যাকেরের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

বিজ্ঞাপন