চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাঁচকলা দেখানো চিকিৎসকদের লাগাম টানতে হবে

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মন্ত্রীদেরকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিচ্ছিলেন; কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই সময়েই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৮ জেলার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে একসঙ্গে অভিযান চালাচ্ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সেই অভিযানে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিসহ স্বাস্থ্যসেবায় নানান অনিয়মের চিত্র উঠে আসতে থাকে।

দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দুদক সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরে জানায়, হাসপাতালগুলোতে ৪০ শতাংশ চিকিৎসকই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে উপজেলা পর্যায়ে সেই হার আরো বেশি, প্রায় ৬২ শতাংশ। ১১টি সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা ২৩০ জন চিকিৎসকের ৯২ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে ঢাকার বাইরে ১৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৮১ জন।

বিজ্ঞাপন

দুদক ৮ জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালের এমন চিত্র তুলে ধরলেও দেশের অন্য জেলাগুলোর চিত্র এর বাইরে নয়। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, সেই চিত্র এরচেয়েও খারাপ এবং তা নিত্যদিনের ঘটনা। এর মানে কি দাঁড়ায়? মানুষের কাছে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থলের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ? তাহলে অসহায় মানুষগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন গত কয়েক বছর ধরে। গ্রামে চিকিৎসকের সংকট মোকাবিলায় বিসিএস ছাড়াই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েক হাজার চিকিৎসকে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও সেইসব চিকিৎসকদের বেশির ভাগই নিজের কথিত সুখ, সুবিধা, আর স্বার্থের জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে এসেছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও অসংখ্যবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর অর্থ দাঁড়ায় কোনো কিছুতেই চিকিৎসকদের কর্মস্থলে রাখা যাচ্ছে না। তারা চলছেন, নিজেদের ইচ্ছায়। কেউ কেউ আছেন নিজ মালিকানার ক্লিনিক বা হাসপাতাল নিয়ে। আবার কেউ কেউ সেইসব ক্লিনিক বা হাসপাতালে বসে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। অথচ যে জনগণের টাকায় তারা চিকিৎসক হতে পারেছেন, যে জনগণের পরিশ্রমের অর্থে তাদের বেতন-বাড়ি-গাড়ি, সেই জনগণকে তাদের বেশিরভাগই বছরের পর বছর কাঁচকলা দেখিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। অনেক চিকিৎসক আছেন, যারা প্রকৃতপক্ষেই মানুষের সেবা দিয়ে তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছেন। যদিও তাদের সংখ্যা অতি নগন্য। মূলত বেশির চিকিৎসক তাদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে সংসদে, আদালতে, গণমাধ্যমে তো বটেই।

আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বারবার তার সরকারের প্রতি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। আর সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের সবচেয়ে বড় উপায়ও বাতলে দিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি মনে করি, সততা আর নিষ্ঠা এই দুটি কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্ত্রিপরিষদ যে কাজই করবেন, নিষ্ঠার সাথে ও সততার সাথে কাজ করবেন। প্রতিটি কাজ নিষ্ঠার সাথে করতে হবে- এ কথাটি মনে রাখতে হবে। জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, কর্তব্য রয়েছে- সেটা পালন করতেই আমরা এখানে এসেছি।”

দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে এত আন্তরিকতা প্রকাশ করছেন; এ জন্য নিজ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মন্ত্রীদেরও নির্দেশ দিচ্ছেন, তখন চিকিৎসকদের বড় একটা অংশ নিজের কর্মস্থলে অনুপস্থিত! তারা ভাবেন, কেউ তাদের কিছুই করতে পারবে না। তাই তো সব নিয়মকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দেন তারা।

আমরা মনে করি, শুধু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেই নয়, সেবাখাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। পেশাজীবীরা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে, দেশের চেহারা পাল্টাতে কতদিন লাগে?

Bellow Post-Green View