চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কষ্টনীড়’কে যে কারণে ফিল্ম বলতে নারাজ আশফাক নিপুন

১৫ জানুয়ারি হইচইতে দেখা যাবে আশফাক নিপুন পরিচালিত ৯৯ মিনিট ব্যাপ্তীর ‘কষ্টনীড়’

Nagod
Bkash July

নির্মাণ মুন্সিয়ানা দিয়ে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন সোনালী ডানার চিল, দ্বন্দ্ব সমাস কিংবা ইতি মা- এর নির্মাতা আশফাক নিপুন। টেলিভিশন ফিকশন নির্মাণে দিনকে দিন যেন তিনি নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। এবার তিনি ভারতীয় জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হইচইয়ের জন্য কাজ করলেন। ৯৯ মিনিট ব্যাপ্তীর সেই প্রোডাকশনটির নাম ‘কষ্টনীড়’। যা স্ট্রিমিং হবে ১৫ জানুয়ারি থেকে।

Reneta June

হইচই এটিকে ‘ফিল্ম’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও, নির্মাতা এটিকে ফিল্ম বলতে নারাজ! তিনি এটিকে ‘হইচই অরিজিনাল’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে আশফাক নিপুন বলেন, ফিল্মে যে পরিমাণ বাজেট ও প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হয়, আমার এই কাজটির ক্ষেত্রে তা হয়নি। ফিল্ম বা ফিচার ফিল্ম বানালে আরও বেশি সময়, বাজেট নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করতাম। কাজেই ‘কষ্টনীড়’কে ফিল্ম বলতে চাইনা। যদি এটাকে ফিল্ম বলি তাহলে দর্শকের প্রত্যাশা অন্যরকম হবে। হইচই থেকে আমাকে ঈদের কনটেন্টের মতো কিছু বানাতে বলেছে। আমি সেভাবেই বানিয়েছি।

উদাহরণ টেনে আশফাক নিপুন বলেন, হইচই তে কষ্টনীড়ের পর ফারুকী ভাইয়ের ‘শনিবারের বিকেল’ যদি মুক্তি দেয়া হয় তাহলেই দুটোই দর্শক ফিল্ম মনে করবে। কিন্তু দুটো কোনোভাবেই এক নয়। ‘শনিবার বিকেল’ এর বাজেট, আয়োজন ও পোস্ট প্রোডাকশন সবকিছুই ফিল্মের মতো করা। কিন্তু আমারটা তা নয়। তাহলে ফারুকী ভাইয়ের ফিল্মের সাথে তো আমার কাজটা একই ক্যাটাগরিতে ফেলতে পারিনা। কাজেই আমার কাজটিকে হইচই অরিজিনাল বলতে চাই। ৫০ মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের কাজ যেহেতু প্রথাগতভাবে ফিল্ম/ওয়েব ফিল্ম বলা গেলেও আমি এটিকে সার্বিকভাবে হইচই অরিজিনাল বলতে চাই।

নিপুনের ‘কষ্টনীড়’ এ অভিনয় করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তারিক আনাম খান, সাবেরী আলম, রুনা খান, সাঈদ বাবু, শ্যামল মাওলা, ইয়াশ রোহান, সাবিলা নূর।

এটি নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে আশফাক নিপুন বলেন, ‘কষ্টনীড়’ শহুরে পরিবারের গল্প। তবে গল্পের মধ্যে বিভিন্ন লেয়ার আছে। প্রত্যেকটি চরিত্রের লেয়ার আছে। রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ফিলোসোফি। দেখা যাবে ব্যক্তিত্ব, আদর্শিক জায়গা ও রাজনৈতিক ক্লেশ।

এর আগে প্রচারিত আশফাক নিপূণ নির্দেশিত সবগুলো নাটক, টেলিফিল্মে দেখা যায় চারপাশে গল্প ও সেই গল্পের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো। ‘কষ্টনীড়’ এ কী এমন কিছু পাওয়া যাবে?

নির্মাতা জানালেন, রিলিজের আগে বেশি কিছু বলতে চাইনা। তবে এখানে পরিবার ছাড়াও রাষ্ট্র সমাজ সবকিছুই রয়েছে। চরিত্রগুলোর সাথে আশপাশে কেউ না কেউ মিল খুঁজে পাবেন। সবগুলো চরিত্র এতোটাই সমসাময়িক যে দর্শক কানেক্টে করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।

ছয়দিনে কষ্টনীড়ের শুটিং শেষ করেছেন আশফাক নিপুন। তিনি বলেন, গত অক্টোবরে শুটিং করেছি। নভেম্বর ডিসেম্বরে ইন্ডিয়াতে কালার গ্রেডিংয়ের কাজ করেছি। আগামী ১৫ জানুয়ারি হইচইতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে কষ্টনীড়। এখানে আমি একেবারেই এখনকার বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক ক্রাইসিসের গল্প বলার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি খুব শক্তিশালী কিছু কমেন্টস রয়েছে। আমার বিশ্বাস, দর্শক এগুলো ধরতে পারবে এবং বুঝতে পারবে এটি বানানোর উদ্দেশ্য কী এবং চরিত্রগুলো কারা।

১৫ জানুয়ারি হইচইতে আসছে আশফাক নিপুনের ‘কষ্টনীড়’

হইচই এর মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে কাজ করলেন আশফাক নিপুন। তবে সবসময় তার কাজে যেমন মনোযোগ থাকে এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের কাজগুলো যেভাবে করি সেভাবেই করেছি। কাজ কম করি বলে চেষ্টা থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এফোর্ড দিতে। যত্ন বা চেষ্টা অনেকটাই নির্ভর করে বাজেটের উপর। মানে বাজেট বেশি পেলে দায়িত্বও বেড়ে যায়।

‘কষ্টনীড়’ বানাতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার কথাও জানান আশফাক নিপুন। গল্পের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পী নির্বাচন করেছেন তিনি। বললেন, তারিক আনাম খান, সাঈদ বাবু, রুনা খান, শ্যামল মাওলাদের সাথে এবারই প্রথম কাজ করলাম। সাবেরি আপাকে নিয়ে অনেক আগে একটা কাজ করছিলাম। তবে সাবিলা ও ইয়াশকে নিয়ে কাজ হয়েছে। বাকিদের নিয়ে কাজ করাটা আমার নতুন অভিজ্ঞতা।

BSH
Bellow Post-Green View