চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

কর্ম উপযোগী শিক্ষা: যেন কথার কথা না হয়

Nagod
Bkash July

স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি কর্ম উপযোগী করা যায়নি। এর বাইরে শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারা তো বিদ্যমান রয়েছেই। আর এ কারণেই দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এ এক চরম সত্য এবং দুঃখজনক বাস্তবতা। কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না। তবে এরমধ্যে আশার বাণী শুনিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

Reneta June

এ নিয়ে গতকাল শনিবার চ্যানেল আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‌‘দেশে শিক্ষিত বেকার কমাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্ম উপযোগী শিক্ষা প্রদানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।’

আমরা মনে করি, শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। সেজন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতার বিকল্প নেই। এখন থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় এসব অন্তর্ভুক্ত থাকলে দক্ষ জনশক্তির জন্য যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সহজ হবে। অবশ্য এ লক্ষ্যে রংপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের আছে। আর তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেইন, আইওটি, ন্যানো টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, রোবটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে জোর দিচ্ছি আমরা। এক সাথে উদ্ভাবনের পথে একযোগে কাজ করতে হবে, তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেছেন, বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার, বিদ্যুতের ব্যবহার এবং ট্রানজিস্টার আবিষ্কার ব্যাপক শিল্পায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে মানবসভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছিল বলে ওই তিন ঘটনাকে তিনটি আলাদা শিল্প বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এখন বলা হচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবনের পথ ধরে আসছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, যেখানে বহু প্রযুক্তির এক ফিউশনে ভৌতজগৎ, ডিজিটালজগৎ আর জীবজগত পরস্পরের মধ্যে লীন হয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা যেসব ক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এরমধ্যেই এসব ক্ষেত্রে দেশে বসে বৈশ্বিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণরা। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এ যুগে আমাদের তরুণরা বিশ্ববাজারে বলতে গেলে নেতৃত্বের আসনে রয়েছে। এই নেতৃত্বকে ধরে রাখতে এবং শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিকল্প নেই। এছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে কর্ম উপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হবে বলেই আমাদের আশাবাদ।

BSH
Bellow Post-Green View