চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কর্মী ছাঁটাই বন্ধ ও বেতন-ভাতার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিয়মিত বেতন-ভাতা না দেয়া, পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকশ’ পোশাক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ, পতাকা র‌্যালী ও মানববন্ধন করে এই দাবি জানায়।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ বলেন, পোশাক শ্রমিক ঠকানো ও নির্যাতনের আইন বন্ধ করতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেন। ট্রেড ইউনিয়ন করলে গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদন বাড়বে। গার্মেন্টস সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

এ সময় যেসব কারখানায় বিভিন্ন কারণে সঙ্কট চলছে, শ্রমিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্যাতন করা এবং তাদের ঠকানো হচ্ছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে রাজধানীর দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা ও হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, পোশাক খাতের বর্তমান সঙ্কট কাটাতে হলে আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে। লড়াই করতে হবে। এছাড়া আমাদের এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই।

সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, সরকার ও মালিক পক্ষ উভয়ে মিলেই এই চেষ্টা চালিয়েছে যে, গার্মেন্ট শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন দেয়া যাবে না। কিন্তু সরকার ও বিজিএমইএ’র উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা যদি এই পায়তারা করেন, তার জবাব শ্রমিকরা দেবে।

এ সময় পোশাক-শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও কালো তালিকা করে হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১০২ ও ১৯০ নম্বর ধারায় অনুস্বাক্ষরের দাবিতে পতাকা র‌্যালী করেছে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বাংলাদেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও গড় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। জিডিপি বৃদ্ধির হালে সবচেয়ে বেশি অবদান তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের শ্রমিকদের।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশনের ১০২ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর এখনও করেনি সরকার। ফলে পোশাক শিল্পেরসহ সব শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। যৌন নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে নারী পোশাক-শ্রমিকরা। আইএলও কনভেনশনের এই দুই ধারায় অনুস্বাক্ষর ও নারী পোশাক-শ্রমিকদের যৌন নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর‌্যন্ত ৪০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। চালু থাকা অনেক কারখানার অবস্থাও খারাপ। পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেয়া, নির্যাতন, কালো তালিকা তৈরিসহ পোশাক শিল্পে চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা। এসব কারনেই রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন শ্রমিকরা।

Bellow Post-Green View