চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও সহিংসতার শিকার নারী, আইনে নেই প্রতিকার

একদিকে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নারীরা যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে এই সহিংসতা প্রতিরোধে আইনী কাঠামোতে নেই সুনির্দিষ্ট দিক নিদের্শনা। ফলে কর্মক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ এবং উপস্থিতি। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন।

একশনএইড বাংলাদেশের নতুন এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে ‘নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মস্থল’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে একশনএইড বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর কোন প্রতিকার না থাকায় বর্তমান কাঠামো সহিংসতাকে আরো উস্কে দেয়। যা নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

“কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা: প্রতিদিন প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রে ঘটছে’’ শিরোনামে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মানবাধিকারের সর্বাধিক লঙ্ঘনের মধ্যে একটি। এক শুমারী অনুযায়ী ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৫শতাংশ নারী (বিশ্বব্যাপী ৮১৮ মিলিয়ন নারী) তাদের বাড়িতে, কমিউনিটিতে অথবা কর্মক্ষেত্রে যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং মানব উন্নয়নে অবদান রাখলেও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা এবং মুনাফাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাছাড়া, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা নারীর মর্যাদা এবং শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে বাধা দেয়।

‘সজাগ নেটওয়ার্ক’ কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২২ শতাংশ নারী পোশাক কর্মী কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন হয়রানির শিকার হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর বিশ্বাসের অভাবের কারণে তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ-ই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির কাছে প্রতিকার চান না।

এ প্রসঙ্গে একশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, একদিকে আইনে যৌন হয়রানিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগেও রয়েছে গুরুতর অভাব। মামলার বিলম্বিত নিষ্পত্তি এবং তদন্ত কর্মকর্তা এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্তররা প্রায়ই বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এর প্রভাব পড়ছে নারীর মনে, কাজে, সমাজে।

অনুষ্ঠানে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশের নারী ও কন্যা শিশুরা কাঠামোগত বৈষম্য এবং সামাজিক রীতির কারণে বিভিন্ন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার সম্মুখীন হন। এটির সমাধান চায় বর্তমান সরকার। প্রয়োজনে আমরা বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, আমাদের দেশে নারীকে দমন করা ও নির্যাতন করাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। আবার তার শ্রমকে মর্যাদা দেয়া হয় না। আইনের পাশাপাশি দরকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। মানুষকে শ্রদ্ধা করতে না শিখলে আইনের উন্নতি হবে না। বাস্তবায়ন হবে না। এজন্য আমাদের পাঠ্যপুস্তকেও পরিবর্তন আনা দরকার।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেজ এডমিনিস্ট্রেশনের অধ্যাপক ও বিজিএমইএ’র পরিচালক এ. মোমেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার পেনি মর্টন।

এই বিষয়ে গবেষণায় কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়।

Bellow Post-Green View