চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: আর কখনো কি ‘হ্যান্ডশেক’ করতে পারবো না?

হ্যান্ডশেক বা করমর্দন মানবসমাজে যোগাযোগের বহুল জনপ্রিয় রীতি। আবহমান কাল ধরে এই রীতি বিভিন্ন সমাজে চলে আসছে। তবে বিশ্বজুড়ে নানা ছোঁয়াচে রোগের কারণে হাজার বছর ধরে চলে আসা এই রীতি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। তথা কোনোরকম স্পর্শহীন যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি ফোকাস পাচ্ছে বর্তমানে।

লেখক জেমস জেফরি বিবিসির নিবন্ধে লিখেছেন, চলমান সমাজ মানুষের জৈবিক সংস্পর্শের সামাজিক রীতিনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে লড়াই করছে। কোভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী জীবনে এই হাত কাঁপানো রীতি বা হ্যান্ডশেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বা হুমকিতে পড়েছে। এর বিকল্প হিসেবে যদিও আরও রীতি প্রচলিত আছে পৃথিবীতে এবং ছিলোও। সেসব রীতিতে সম্প্রতি মানুষ অভ্যস্থ হওয়ার চেষ্টা করলেও হ্যান্ডশেক করে অভিবাদনের বিষয়টি ব্যতিক্রমী ও অধিকতর জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত হ্যান্ডশেক বা করমর্দন পরিচিত-অপরিচিতদের মধ্যে সাক্ষাতে, অভিবাদন/সম্ভাষণ করা হয়ে থাকে আমাদের সমাজে। শুধু তাই নয় দেশ থেকে দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের সাক্ষাত, ব্যবসায়ীক চুক্তির ক্ষেত্রে এটি পারস্পরিক অভিবাদনে সমান জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন

হ্যান্ডশেকের সূচনা সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকের মতে, প্রাচীন গ্রীসে শান্তির প্রতীক হিসেবে হ্যান্ডশেকের উদ্ভব হয়েছে। দুজন ব্যক্তি মুখোমুখি হয়ে সামনে হাত বাড়িয়ে দেয়া এবং দুজনের কেউই হাতে অস্ত্র বহন করছেন না প্রমাণ করা; এই নিয়ম শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রচলন শুরু হয় গ্রিক সভ্যতায়। অথবা হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পরস্পর হাত কাঁপানোর নিয়মটি মধ্যযুগীয় ইউরোপে শুরু হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে এটি নাইটদের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়, যখন লুকানো অস্ত্র প্রকাশ্যে এনে নাইটরা অপর ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাত।

এ বিষয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টাইন লেগারে বলছেন, এই হ্যান্ডশেকের রীতি ‘মানবিক’ সংযোগের আক্ষরিক অঙ্গভঙ্গি। মানুষ গভীরভাবে সামাজিক জীবরূপে বিকশিত হওয়ার প্রতীক। হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ‘হ্যান্ডশেক’ থেকে খুব সহজেই বিরত থাকা মানব সমাজের জন্য কঠিন।

পারস্পরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে অভিবাদনের এই রীতির প্রচলন মানুষের বাইরে অন্য প্রাণীর মধ্যেও পাওয়া যায়। ১৯৬০ সালের দিকে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী হ্যারি হার্লো প্রমাণ করেন যে, তরুণ রীস্যাস প্রজাতির বানরের বিকাশে এমন সংস্পর্শ সহায়ক স্নেহপ্রবণ সম্বোধন ছিলো।

শিম্পাঞ্জি সাধারণত হাতের তালু স্পর্শ করে, আলিঙ্গন করে এবং কখনো কখনো সম্ভাষণের রূপ হিসেবে পরস্পর চুম্বন করে থাকে। জিরাফ পরস্পরের সাথে ঘাড়ের ব্যবহার করে, একে অপরে ঘাড় দুলানো এবং ঘষা দিয়ে সম্ভাষণের মতো কিছু করে থাকে। এটি তাদের আধিপত্য বিস্তারের রীতির মধ্যেও পড়ে।

এথেকে বলা যায়, বিশ্বজুড়ে অভিবাদনের অনেক নিয়ম রয়েছে, যা রোগ সংক্রমণের বেড়াজালকে এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে। অনেক সংস্কৃতিতে দুই হাতের তালু একসাথে করে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে সম্ভাষণ করার নিয়ম প্রচলিত আছে। সনাতন হিন্দু সংস্কৃতিতে দুই হাত একত্র করে সম্ভাষণ ‘নমস্তে‘ সর্বাধিক পরিচিত।

সামোয়ায় ‘চোখের ভ্রুর ব্যবহার করে মুখে এক ঝলক হাসি দিয়ে অভিবাদন  রীতির প্রচলন আছে, যা বেশ জনপ্রিয়। মুসলিম দেশগুলোতে কারো হাত বা শরীর স্পর্শ না করে বুকের ওপর হাত রেখে সম্ভাষণ করার একটি অত্যন্ত সম্মাজনক রীতি প্রচলিত আছে, যা সংক্রমণ রোগ এড়িয়ে চলতে দারুণ সহায়ক। এটি বিশেষত তুরস্ক ও তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে জনপ্রিয়। এছাড়া হাওয়াইয়ান ‘শেকসাইন‘ নামে এমন একটি সম্ভাষণ আছে, যা আমেরিকান সার্ফারদের হাত ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হাতের মাঝখানের তিনটি আঙ্গুল কুঁকড়ে দিয়ে ছোট ও বৃদ্ধাঙ্গুল দুই দিকে বের করে হাতকে অপর ব্যক্তির একই ধরনের ভঙ্গির দিকে এগিয়ে দেয়ার রীতি এটি।

এই ভিন্ন ধর্মী অভিবাদন রীতির বিপরীতে ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সাক্ষাতের পর হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গন, গালে চুম্বন ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন লক্ষণীয়। শারীরিক স্পর্শের এই রীতি কয়েক মাস আগেও সমালোচিত হয়নি। তবে বিশ শতকের প্রথমার্ধের দিকে অনেক মনোবিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, শিশুদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন কেবল একটি সংবেদনশীল ভঙ্গি থাকলেও তা ঝুঁকিতে পড়েছে। এবিষয়ে এমনভাবে সতর্ক করা হয় যে, এধরনের স্নেহের প্রদর্শনী সংক্রামক রোগ ছড়াতে এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন বিহ্যাভিয়ার বিজ্ঞানী ভ্যাল কার্টিস তার ‘ডোন্ট লুক ডোন্ট টাচ‘ গ্রন্থে বলেছেন, কারো গালে হাত দ্বারা স্পর্শ ও চুম্বন অভিবাদন এমন একটি ইঙ্গিত, যাতে অন্য ব্যক্তির জীবাণু ভাগাভাগি হওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান। সুতরাং জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের দিকে লক্ষ্য করে এর অনুশীলনের ইতিহাসে পরিবর্তন হয়েছে বারবার।

১৯৯০ সালের দিকে আমেরিকান জার্নাল অফ নার্সিং-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয় যে, ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে আমেরিকানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো, বন্ধুদের সঙ্গে সম্ভাষণের বেলায় যেন চাইনিজ রীতি ব্যবহার করা হয়। নিজের এক হাতের ওপর অপর মুষ্ঠিবদ্ধ হাত রাখার মাধ্যমে অভিবাদন করা চাইনিজদের প্রাচীন রীতি।

এভাবেই শুরু হয় মূলত হ্যান্ডশেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটা ধারার প্রচলন। এর পর দেখা যায়, ২০১৫ সালে করোনাভাইরাস মহামারী ছড়ানোর আগে ইউসিএল- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটকে ‘হ্যান্ডশেক ফ্রি জোন‘ হিসেবে ঘোষণা করে।তাছাড়া বিশ্বজুড়ে মুসলিম মহিলাদের মাঝেও যে কারো সঙ্গে হ্যান্ডশেকের বিষয়ে আপত্তি উঠে।

বিজ্ঞাপন

এমন আপত্তি ও বর্জন সত্ত্বেও বিশ শতকের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রশ্নাতীতভাবে হ্যান্ডশেক পেশাগত, সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ হিসেবে বহুল প্রচলিত হয়। মূলত সম্প্রতি হ্যান্ডশেক এর ঝুঁকি হয়ে এসেছে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস। হ্যান্ডশেক না করতে, পরস্পরকে স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে, এমনকি ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সতর্ক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু। এমনই পরিস্থিতিতে শঙ্কা জেগেছে, ভবিষ্যতে আর হ্যান্ডশেকের রীতি থাকছে, নাকি থাকছে না?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাচ্ছে, লকডাউন শিথিল করার সাথে সাথে হ্যান্ডশেকের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাসে প্রতিরোধে গঠিত টাস্ক ফোর্সের অন্যতম প্রধান সদস্য ড. অ্যান্টনি ফৌসি এপ্রিলে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে কি আমি মনে করি না যে, আমাদের আর কখনো হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়ানো উচিত। এতে করে শুধু যে করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে তা নয়, এদেশে নাটকীয়ভাবে সকল ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধে তা উপকারী হবে‘।

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্টতই প্রতিয়মান, সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনাগুলো সম্ভবত দীর্ঘদিনের জন্য স্থায়ী হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে বয়স্ক, দুর্বল ব্যক্তি, ফুসফুস রোগ, স্থুলত্ব এবং ডায়াবেটিস সহ নানা অসুস্থতায় আক্রান্তদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক হবে। এক্ষেত্রে লোকজন পরস্পরকে স্পর্শের মাধ্যমে অভিবাদন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে।

এই বিষয়ে ডেল মেডিকেলের ক্লিনিকাল ইন্টিগ্রেশন এবং অপারেশনসের সহযোগী চেয়ার স্টুয়ার্ট উল্ফ বলেছেন,  এর ফলে সমাজে একধরনের বিভক্তি তৈরি হতে পারে। দুই ভাগে ভাগ হতে পারে সেটা-যারা স্পর্শ করতে পারবে আর যারা পারে না। এটি মারাত্মক মানসিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে একটি গোষ্ঠীর মাঝে।

স্টুয়ার্ট উল্ফ বলছেন, আমরা ইতিমধ্যে সমাজে তরুণ শক্তি ও দুর্বল; এভাবে পার্থক্য করে পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছি, এতে বৃদ্ধ অসুস্থ ও তরুণ সুস্থদের মধ্যে বাধ্যতামূলক কৃত্রিম পার্থক্য কিছু লোককে মারাত্মকভাবে আঘাত করবে।

উল্ফ আরও বলছেন, সত্যি বলতে, শারীরিকভাবে সংস্পর্শের মাধ্যমে অভিবাদনের বিষয়টি আমাদেরকে গভীরভাবে যুক্ত করে। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বছরে আনুমানিক ৬৫ হাজার লোকের সাথে হাত মেলায় বা হ্যান্ডশেক করেন।

কিন্তু প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান এন্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এল্কি ওয়েবার এই বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন। মানুষ জীবনাচরণে কীভাবে ঝুঁকি নিয়ে থাকে সে বিষয়ে অধ্যয়ন করে তিনি বলছেন, স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে অভ্যাস ও সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তন হয়। এতে করে সময়ের প্রয়োজনে অভ্যাসগুলো কঠোরভাবে মারা যায়।এক্ষেত্রে চীনাদের প্রাচীন রীতি ‘পা বাঁধাই‘ এর দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তিনি।

এমন অভ্যাস পরিবর্তনের রীতির দৃষ্টান্ত অনেক বিদ্যমান। স্পর্শহীন অভিবাদনের বিকল্পের মধ্যে, বোয়িং বা কারো সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান করার রীতিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অনুশীলন করা হয়েছে সম্প্রতি। থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসজনিত কারণে কম মৃত্যুর জন্য এই রীতির প্রচলন প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতে হ্যালো বলা, মাথা ঝাঁকানো, হাসি এবং অগণিত হাতের সংকেত রয়েছে, যা শারীরিক সংস্পর্শের সঙ্গে জড়িত না।

তবে হ্যান্ডশেকের সপক্ষে বলতে গিয়ে অধ্যাপক লেগারে বলছেন, কোভিড-১৯ এর অন্যতম নিষ্ঠুর উপহাস এই যে, মানুষ যখন মানুষের সংস্পর্শের কারণে মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়, তখন তা ব্রেনে মারাত্মক অবস্থা উদ্রেগ করে।

এই বিষয়ে তার যুক্তি অত্যন্ত মানবিক। তিনি বলছেন, একটু চিন্তা করে দেখুন এভাবে যে, কারো মৃত্যুর বা মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনার পর শোকাহত ব্যক্তি বা পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে আমরা আলিঙ্গন করি, একজনের পাশে বসে কাঁধে হাত রাখি, যা মানুষের মনে প্রশান্তি দান করে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর ফলে এই বিষয়টি করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কঠিন বাস্তবতা মানুষকে আজ সেখানে দাঁড় করিয়েছে।

তবে এই অবস্থায় বেঁচে থাকা বা বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবীয় আচরণ। তাই বাস্তবতার নিরিখে নিয়ম মেনে চলাটাই শ্রেয়- বলছেন লেগারে।

এক্ষেত্রে আশার বাণী নিয়ে এসেছেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আর্থার মার্কম্যান।

তিনি বলছেন, হ্যান্ডশেক বা করমর্দন এর ব্যাপারে এখনই হাল ছাড়বেন না। রোগ-বালাই এড়িয়ে চলা মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য অঙ্গ। যদিও এখন জটিল সামাজিক জীবনযাপনে আছি আমরা। তবে তা যে স্থায়ী হয়ে যাবে তেমনটা নয়।

তিনি বলছেন, আমরা সম্পূর্ণ সংস্পর্শ ত্যাগ করার চেয়ে নিজেদের নাকে-মুখে হাতের স্পর্শ এড়িয়ে চলি। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং পরিচ্ছন্নতার দিকটার গুরুত্ব দিই। এতে করে সামাজিক দূরত্ব অনেকটাই ঘোচানো সম্ভব হবে। কেননা, পারস্পরিক সংস্পর্শে গিয়ে যোগাযোগ বা অভিবাদন করতে না পারা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।