চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছ হলেই দেশের লাভ

অনেক অন্ধকারের মাঝে আশার আলো জ্বলে উঠলে মানুষ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু করোনা ভাইরাস এমন এক ঘাতক যার কাছে স্বপ্ন পরাস্ত। মানুষের মনে প্রশ্ন এখন, ‘কাল সকালটা কি আমি দেখতে পাবো।’ গৃহবন্দি জীবনে নিজেকে টিকে থাকার লড়াইটা করতে হচ্ছে নিজের সাথে। আবার নিজের মৃত্যুর ভয়াবহতা বইতে হবে পরিবারকে, সমাজকে। কারণ এ ভাইরাস হাত বদল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এমনই ভয়ংকর ভাবনা তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। সবাইকে ।

শঙ্কিত দেশ। কেউ যদি প্রশ্ন করে কেমন আছি? মিথ্যে করেও বলতে ইচ্ছে হয় না, ‘ভালো আছি।’ ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মত শহরের মানুষরা ছুটে গিয়েছে গ্রামে। আবার লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে আরো মানুষ গ্রামে চলে যাবার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু কেন মানুষ গ্রামে যাচ্ছে এ প্রশ্নের বিশেষ একটা উত্তর হলো, ‘গ্রামে এ রোগ হবে না। শহরে অসুখ বিসুখ বেশি।’ আর দ্বিতীয় উত্তর হলো, মরলে নিজের ভিটাতে মরব। শহরে দাফন জানাজা হয় না। তৃতীয় উত্তরে বলছে, কাজ কাম ছাড়া শহরে চলা অসম্ভব। এটা নিম্ন আয়ের লোকদের কথা। আর মধ্যবিত্ত মানুষদের মাঝে ছুটির আমেজ নিয়ে গ্রামে যাওয়া।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু লকডাউন করা হয়েছিল ঘরে থাকার জন্য। সেটা সবটা কার্যকর করা সম্ভব না হলেও বেশটা সফল। শহরের রাস্তা ঘাট তার প্রমাণ। তথাপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হেনস্তা হয়েছে পেটের দায়ে কাজে আসা মানুষ। সে বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার সদস্যদের হুঁঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে। আর গরীবদের সহায়তা দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজের বেশ কিছু মানুষ। কেউ যেন অনাহারে না থাকে সে প্রচেষ্টা চলছে সমাজে। সরকারও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে মানুষের জন্য।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এর ভয়াবহতা অনুধাবন করতে হলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ আগামী ৭/৮ দিন হলো এ ভাইরাস সামাজিকভাবে ছাড়ানোর সময়। তাই এ সময়টাতে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা খুব বেশি জরুরি। লকডাউনের কারণে গ্রামে এখন মানুষ বেশি। আবার প্রবাসীদের অবস্থান ও বেশি গ্রামাঞ্চলে। করোনা ভাইরাসের নীরব বাহক হয়েও আমি আপনি অন্যকে আক্রান্ত করতে পারি – তা বুঝতে নারাজ মানুষ। এ অবুঝ ভাবনাতে দেশে ইটালির পরিস্থিতি হবার শঙ্কা থেকেই যায়।

তার কারণ হলো আইইডিসিআর থেকে বলা হচ্ছে পরীক্ষার মাধ্যমে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৯। এ যদি সঠিক তথ্য হয় তবে এটা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই আর্শীবাদস্বরূপ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য লকডাউন একমাত্র সমাধান নয়। এর জন্য দরকার “টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট।” আনুপাতিক হারে দেশের সর্বত্র টেস্টের ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নাই। আবার গণমাধ্যমে ইদানিং সর্দি-জ্বরে মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে। সাধারণ সর্দি-জ্বরে মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিকতা বলে ধারণা করা অমূলক নয়।

বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাসের ভয়ানক চিত্রকে আড়াল করতে চেষ্টা করেছে ইউরোপ আমেরিকার মত দেশগুলো। তা কিন্তু সম্ভব হয়নি। বরং এতে করে মানুষ বিপদগ্রস্থ হয়েছে অনেকভাবে।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষকে আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের টেস্টের ফলাফল নিয়ে জনগণের মধ্যে একপক্ষ সন্দিহান। অন্যপক্ষ গুজব আর অন্ধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে ঘরে থাকার নিয়ম ভাঙতে শুরু করছে। আবার প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের মানুষ এসব বিষয়কে শিক্ষিত মানুষের বেশি বুঝার কুফল বলে মনে করে।

প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে হলে প্রস্তুতি থাকাটা সবার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সারা বিশ্বের মত স্থবির এখন। এ অবস্থা সাময়িক থেকে দীর্ঘায়িত করতে না হলে জনগণকে স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে। কারণ করোনা ভাইরাস থেকে স্বল্প সময়ে মুক্ত হবার ঘটনা এখন অবধি কোন দেশে হয়নি। যার কোন প্রতিষেধক ওষুধ নাই সেখানে বাংলাদেশে নিমিষেই করোনা ভাইরাস উধাও হয়ে যাবে এমন কল্পনাতীত স্বপ্ন কারো জনহিতকর হবে না।

স্বাভাবিকভাবে অন্য রোগ ছাড়া যারা সর্দি-জ্বরে মারা যাচ্ছে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানাতে হবে জনগণকে। তা না হলে বিভ্রান্তিকর অস্থিরতা দেখা দেবে দেশে।

করোনা ভাইরাস-১৪ দিন পর্যবেক্ষণ১৭ কোটি মানুষের এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সচেতনতা কতটা দুর্বল তা সম্পর্কে সরকার ও জনগণ জ্ঞাত। সুতরাং আইইডিসিআর এর করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য অন্য দেশের মত স্বচ্ছ হলে মানুষ নিজে থেকে সচেতন হতে সচেষ্ট হবে। কেননা লকডাউন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে বাঁচতে চায় প্রতিটি মানুষ। সবাইকে মনে রাখতে হবে, ‘অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ হয়ে যায় না।’

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)