চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার প্রভাবে বিউটিশিয়ানরা এখন দিনমজুর

করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিউটি পার্লারের কর্মরত নারীরা। দীর্ঘ তিনমাসের অধিক সময় ধরে কর্মহীন হলেও নূন্যতম সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন দিনমজুরের কাজ। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দাবি জনপ্রতিনিধিদের।

ছবির মত সুন্দর মধুপুর গড়ের চুনিয়া গ্রাম। এই গ্রামের অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করা দিতি, রিয়া, সুস্মিতাসহ অন্যরা কেউই পেশাদার শ্রমিক নয়। তারা সবাই ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পেশা-বিউনিশিয়ান কাজে নিয়োজিত ছিল। তারা সমাজের মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে থাকা পশ্চাৎপদ পাহাড়ী এই জনপদের মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী। মাতৃতান্ত্রিক নিয়মে পরিপাটি করে বাড়িটি সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব তার। তবে তার থেকেও গুরুদায়িত্ব বাড়ির সকলের মুখে খাবার তুলে দেয়া। অতীতে যাদের অধিকাংশের আয়ের উৎস ছিলো দিন মুজুরী, বর্তমানে তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য বেছে নিয়েছেন বিউটিশিয়ান পেশা।

বিজ্ঞাপন

এই পেশা তাদের অন্ধকার থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন যেমন দেখাতো তেমনি এর প্রভাবে চাঙ্গা থাকতো গ্রামীণ অর্থনীতিও। তবে করোনাকাল তাদের সেই স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্নে ছেদ ঘটেছে। পেশা বন্ধ থাকায় জীবন বাঁচিয়ে রাখা রীতিমত যুদ্ধ হলেও মানবিক সহায়তার হাত বাড়ায়নি কেউ।

বিজ্ঞাপন

তারা কর্মহীন হয়ে পড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছ স্থানীয় অর্থনীতিতে। সেই সাথে সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তাদের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর আদিবাসী কল্যাণ ট্রাস্টের ইউলিয়াম দাজেল জানান, শ্রমিক হওয়ায় কাজেও নিচ্ছে না মালিকপক্ষ। এজন্য কোন দিন ভাগ্যক্রমে কাজ জুটলেও অধিকাংশ দিনই অতিবাহিত করতে অনাহারে অর্ধাহারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুপুর আরিফা জহুরা আশ্বাস দিয়ে জানালেন, নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির ভেতর বিউটিশিয়ানের কাজ করা কর্মহীনদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

বেসরকারী উন্নয়ন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউমেন ডেভেলপমেন্ট (সেড) এর ২০১৮ সালের ৪৪ টি গ্রামের জরিপে দেখা গেছে মধুপুর এলাকায় ১৭হাজার ৩শ ২৭ জন গারো সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে ১১শ ৩১ জন নারী দেশের বিভিন্ন জেলায় বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন যা তাদের মোট জনসংখ্যার ৬.৮% ।